টেকসই ভবন মূল্যায়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার-জাতিসংঘের উদ্যোগ

ফাইল ছবি
দেশে টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল ভবন নির্মাণে জাতীয় পর্যায়ে একটি মূল্যায়ন ও লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার রাজধানীতে সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সংগঠন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) আয়োজিত এ কর্মশালায় সহযোগিতা করে ইউএন-হ্যাবিট্যাট, ইউএনইপি এবং ইউএনওপিএস। জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিএমজেড) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ট্রান্সফর্মিং দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট থ্রু সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয় কর্মশালাটি।
এতে এইচবিআরআই-ডেশ (ডিজাইন ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাটস) এবং এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ডেশবোর্ড বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ দুটি প্ল্যাটফর্মকে দেশের নিজস্ব টেকসই ভবন মূল্যায়ন ও লেবেলিং ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোস্ত. ফেরদৌসী বেগম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং এইচবিআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. গিয়াসউদ্দিন হায়দার।
পরে ‘বাংলাদেশে টেকসই ভবন এগিয়ে নেওয়া: এইচবিআরআই-ডেশ বাস্তবায়নে নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও অর্থায়ন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় নীতিগত সহায়তা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কর্মশালায় তুলে ধরা হয়, ইউএনইপি/গ্লোবালএবিসি গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বে জ্বালানিসংক্রান্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের প্রায় ৩৭ শতাংশ ভবন ও নির্মাণ খাত থেকে আসে। একই সঙ্গে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট নির্মাণসামগ্রীর প্রায় অর্ধেক এই খাতেই ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের (আইএফসি) তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত নগরায়নের কারণে বাংলাদেশে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ নতুন আবাসন ইউনিটের চাহিদা তৈরি হবে। ২০৩৭ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করবে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স- বাংলাদেশ (আইইবি), স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান, আবাসন খাতের উদ্যোক্তা, নির্মাণশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মোস্ত. ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, ‘এইচবিআরআই-ডেশ শুধু একটি কারিগরি কাঠামো নয়; এটি বাংলাদেশের নিজস্ব একটি জাতীয় উদ্যোগ, যা টেকসই নগর উন্নয়নের অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে। সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রচেষ্টায় সারা দেশে টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল ভবন নির্মাণে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
কর্মশালা থেকে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে এইচবিআরআই-ডেশ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং পরীক্ষামূলক প্রকল্প ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জাতীয়ভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ১১, ১২ ও ১৩ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি স্বল্প-কার্বন, সম্পদসাশ্রয়ী এবং জলবায়ু-সহনশীল নির্মাণ খাত গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।




