৪০ জেলায় ছড়িয়েছে তাপপ্রবাহ তীব্রতা বাড়তে পারে আরও
- তীব্র গরমে বাড়ছে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডের রোগী
- ৬ জুন থেকে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা

ছবি: আগামীর সময়
জ্যৈষ্ঠ মাস প্রায় শেষের দিকে, দরজায় কড়া নাড়ছে বর্ষা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দাপট থাকলেও গরম কমছে না। বাতাসেও যেন আগুনের হল্কা। আবহাওয়ার এই বৈপরীত্যের কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে জনজীবন। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও ফেলছে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এমন অবস্থা চলতে পারে আও কয়েক দিন। কোথাও কোথাও আরও খারাপ হতে পারে পরিস্থিতি।
অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকাও তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে। এ তাপপ্রবাহ দেশের ৪০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী কয়েকদিন দেশ জুড়ে গরমের তীব্রতা আরও বিস্তৃত হবে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বললেন, বর্তমানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সূর্যের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাত হলে গরমের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে তাপের অনুভূতি বেশি হয়।
তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের শরীর থেকে নির্গত ঘাম দ্রুত শুকাতে পারে না। এর ফলে অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি মনে হয় এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
নাজমুল হক জানালেন, ৬ জুন পর্যন্ত দেশের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে ৬ জুন থেকে এর প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন আবহাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, তীব্র গরমের এই সময়ে মানুষের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। দিনের বেলায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হিটস্ট্রোক, শরীরে পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকের রক্তচাপও কমে যেতে পারে।
ডা. লেলিন চৌধুরী জানালেন, এ সময় কিছু ভাইরাসের সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রোটা ভাইরাসসহ বিভিন্ন ভাইরাসের প্রভাবে শিশুদের ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে গরমের কারণে মানুষ বেশি পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করে। ফলে দূষিত পানি বা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে পানিবাহিত রোগ যেমন জন্ডিস, টাইফয়েড ও ফুড পয়জনিংয়ের প্রকোপও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যত্রতত্র পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, তীব্র গরমে সাবধান থাকতে হবে এবং হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে পানির বোতল রাখা উচিত।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুনের প্রথমার্ধে সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভ করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দেশে বিক্ষিপ্তভাবে ৮ থেকে ১০ দিন কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিন দিন শিলাবৃষ্টিসহ তীব্র ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।




