শ্রম আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে জার্মানি
- শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা জার্মান ভাইস মিনিস্টারের

সংগৃহীত ছবি
শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার ঢাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন জার্মান ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় অগ্রগতি। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনটি প্রয়োগে আমরা বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
২৭ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে জার্মান প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের শোভন কাজ, কল্যাণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিকদের ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শক্তিশালী সামাজিক সংলাপ, শ্রম অধিকার এবং শোভন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নির্বাচনী ইশতেহারেও এসব বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে।
সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনী পাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ নম্বর কনভেনশন অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি সামাজিক সংলাপ, বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রম প্রশাসন শক্তিশালী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠবে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সুরক্ষায় এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের জুন থেকে তৈরি পোশাক খাতে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। আইএলওর ১২১ নম্বর কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ কর্মসূচির আওতায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে মাসিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বর্তমানে কর্মসূচিটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), চামড়া ও জুতা খাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। এটিকে জাতীয় পর্যায়ে চালু করতে উপযুক্ত অর্থায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় জার্মান সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শোভন কাজ ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক মডেল টেকসই হতে পারে না। তিনি জানান, আগে জার্মানিতে কম দামে পোশাক কেনার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেত। তবে এখন ভোক্তারা পোশাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ নিয়েও সচেতন।
বৈঠকে আরও ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, আ স ম আশরাফুল ইসলাম ও মো. হুমায়ুন কবীর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




