জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন তরুণ উদ্যোক্তারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- পিএমও
তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবার আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআট ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক উদ্যোক্তার প্রশ্নের জবাবে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের প্রশ্ন ছিলো, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ দেওয়া হয় জামানতের ভিত্তিতে অর্থাৎ জমি বা সম্পত্তির বিপরীতে। এখন যাদের বাবার জমির নেই কিন্তু ভালো আইডিয়া রয়েছে তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার কী ব্যবস্থা রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এক কথায় যদি আমাকে বলতে হয় আপনার এই সমস্যাটা কিন্তু আমি সবাই জানি, আমরা সবাই জানি। আমাদের আইসিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে ৫০০ কোটি টাকার মতো বাজেট রাখা হয়েছে। এই ফান্ড থেকে আমরা ৫ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
‘একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার মতো যদি এমন উদ্যোক্ত থাকে যাদের ফ্রেশ স্টার্টআপ। তাদের ব্যাংকের হ্যাসেল বা বিভিন্ন রকম সম্পদের সিকিউরিটি দিতে হয়। বিভিন্ন রকম কাগজপত্র দিতে হয়। এসব সমস্যা যেন না থাকে। আপনি আসবেন, আপনার প্রজেক্ট দেখাবেন। এর জন্য নিরপেক্ষ একটা কমিটি করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী সাহেবও নাই, এডভাইজার সাহেবও নাই। একদম পিউর একটা কমিটি করা হয়েছে। তারা আপনার প্রজেক্ট দেখবেন। তারপর আপনাকে ফান্ডিং করবে।’
নসুরাতের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিলো একজন স্টার্টেআপ যেমন সফলতা আছে তেমনি ব্যর্থতাও আছে। দেখা যায় যে, একটা স্টার্টআপ যদি প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তার দ্বিতীয়বারি ঋণ পেতে অসুবিধা হয়। এ ব্যাপারে কী করা যেতে পারে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘দেখুন আপনাকে যে ফান্ড দেওয়া হবে সেটা কারো প্রাইভেট মানি নয়, পাবলিক মানি। তবে নিশ্চয় আপনার ওটা (প্রকল্পের) যদি পটেনশিয়াল থাকে ডেফিনেটলি তাকে আবার পুনর্বিবেচনা করা হবে। ভালো হলে অবশ্যই ফান্ডিং করা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা, পুলিশের বাধায় হট্টগোল
১৪ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনি বলেছেন স্টার্টআপ শুধু ঢাকা শহর কেন্দ্রিক নয়, সারা দেশে যাতে হয়। স্টার্টআপের এ বিষয়টা আমরা নতুন ভাবে শুরু করতে চাইছি। আমরা চাইছি আপনাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তরা ধীরে ধীরে আসুক। আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ফাহিম স্টার্টআপকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সরকারের পরিকল্পনা আছে বলে জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়ো টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নাফিউ প্রশ্ন ছিলো একটি ‘জাতীয় জেনোটিক ডাটা ব্যাংক’ গড়ে তোলা হবে কিনা।
প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নের জবাবটা প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে দিতে বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তে কোন ডিপিআই মানে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কিংবা কোন ডেটা ব্যাংক নেই। সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, আমরা টপ প্রায়রিটি ফর আস এবং এই প্রথমবারের মতো আমরা ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালু করতে যাচ্ছি। এটা আমাদের ফাস্ট পপুলেশন ডেটাবেস যেটা পপুলেশন রেজিস্ট্রি হিসেবে কাজ করবে। এটা প্রথম ধাপ। পুলেশন ডেটাবেস, পপুলেশন রেজিস্ট্রি তখন আপনি নেক্সট হেলথকেয়ারে যেতে পারবেন। আপনি এডুকেশনে যেতে পারবেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নপর্ব। তরুন উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা প্রধানমন্ত্রী কাছে জানতে চান। অনুষ্ঠানে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ মনজুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তরে মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। এই পর্বে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।





