পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড
- মন্ত্রিসভায় চার আইনের খসড়া অনুমোদন

সংগৃহীত ছবি
অনলাইন জুয়া ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ডিজিটাল অপরাধের শাস্তি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পায় এসব আইনের খসড়া।
খসড়া আইনগুলো এখন উঠবে সংসদে। সেখানে পাস হলে আইন আকারে শুরু হবে কার্যক্রম। অনুমোদিত আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ ও ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর নীতিগত অনুমোদন এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ ও ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
রাতে মন্ত্রিপরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ যুগোপযোগী করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইন হলে ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, ব্যাটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং বন্ধ হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
আলোচিত পরীক্ষার ডিজিটাল জালিয়াতি আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস বা ফল হ্যাকিং করলে ৫ বছরের জেল হবে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। মাদক পাচার, সাইবার স্পেসে মাদক বিক্রি ও বিচারিক জটিলতা দূর করতে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। মাদকসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে আইন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচা ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে বিশেষ ধারাও সংযোজন হয়েছে। মাদক সহজে শনাক্ত করতে ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠন এবং সীমান্ত এলাকায় আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথ অভিযানের আইনি কাঠামো তৈরি হবে আইনটিতে। ২০০১ সালে গেজেট হওয়া ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’কে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব না বাড়ায়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখার জন্য ‘এসএসএফ’র প্রতি আহ্বান জানাই।” খবর বাসসের।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বললেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
এ সময় এসএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফকে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান চীনের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর অ্যাভিয়েশন
খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে দুই
দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান
সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।




