সরকারের নতুন উদ্যোগ
তৈরি হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ডেটাবেজ
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বিস্তারিত তথ্য থাকবে হাতের মুঠোয়
- সঠিক নীতি নির্ধারণে হবে সহায়ক
- আগামী ১-২৫ অক্টোবর জরিপ করবে বিবিএস
- উঠে আসবে আর্থসামাজিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র

ফাইল ছবি
প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ। এতে তাদের পরিবারভিত্তিক যাবতীয় তথ্য থাকবে। এজন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালনা করবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬। আগামী ১ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চালানো হবে এ জরিপ।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি আগামীর সময়কে বলেছেন, সরকার চায় কাউকেই পেছনে না ফেলতে। দেশের সমন্বিত উন্নয়ন করতে হলে সব শ্রেণি, পেশা ও জাতিগেষ্ঠীর মানুষের উন্নয়ন করতে হবে। সেজন্য সঠিক তথ্য দরকার। যদি পরিসংখ্যান হাতে না থাকে তাহলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য পলিসি নেওয়াটা কঠিন হবে। এসব চিন্তা করে জরিপটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকার চায় সব বিষয়েই প্রকৃত তথ্য উঠে আসুক। তথ্য সঠিক না হলে পরিকল্পনাও সঠিক হবে না।
বিবিএস সূত্র জানায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য দেশের নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যার খানাভিত্তিক (পরিবার) পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। এ ছাড়া প্রাপ্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যার আর্থসামাজিক অবস্থা নির্ণয় করা।
প্রকল্প পরিচালক ফারহানা সুলতানা আগামীর সময়কে বলেছেন, এরই মধ্যে আমরা জরিপের পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম শেষ করেছি। তথ্য সংগ্রহের কাজ করবেন প্রায় ৩ হাজার কর্মী।
তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রধানত যেসব তথ্য জানতে চাইবেন সেগুলো হলো— এলাকা পরিচিতি, নৃগোষ্ঠী খানা (পরিবার) শনাক্তকরণ, খানার বৈশিষ্ট্য, খানার সদস্যদের তথ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ১০ বছরের বেশি সদস্যদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিদেশে বা পরিবারের বাইরে বসবাসকারী (মেসে, হোস্টেলে, কর্মস্থলে) সদস্যদের তথ্য। এ ছাড়া ঘরে কেউ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে কি না, কোনো ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছে কি না, জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কি না, পরিবারের সদস্যদের বৈবাহিক অবস্থা, জন্মসনদ আছে কি না, ধর্মীয় পরিচয়, কোনো ধরনের এনজিওর সহায়তা পেয়েছেন কি না, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট আছে কি না, পরিবারে রেমিট্যান্স আসে কি না ইত্যাদি।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেছেন, জরিপটি দেশের প্রথম নৃগোষ্ঠী জরিপ হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন তাদের আর্থসামাজিক অবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে, তেমনই অন্যদিকে সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে অবদান রাখবে।
বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক বলেছেন, এই জরিপের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনসহ সবার সার্বিক সহযোগিতা দরকার। এ ধরনের বিশেষ জরিপের উপাত্ত নীতিনির্ধারক ও মাঠপর্যায়ে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রেগ্রামের সেবাগুলো নির্বিঘ্নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।




