স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
রামিসা হত্যা মামলায় ভূমিকার জন্য পুরস্কৃত হবে পুলিশ

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: আগামীর সময়
বহুল আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘জনমতের প্রত্যাশা অনুযায়ী অল্প সময়ের মধ্যে মামলাটির তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশের বিচারিক ও তদন্ত ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আজ রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলা ছিল। এ মামলায় দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালন করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেছেন, ‘শুধু রামিসা মামলাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের আরও কিছু প্রশংসনীয় সাফল্য রয়েছে। গোয়ালন্দঘাটে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের আন্তরিকতা ও তৎপরতার কারণে অন্তত ৫০ জন মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় শুরুতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে, তদন্ত সম্পন্ন করে এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণে সক্ষম হয়।’
তিনি বলেছেন, ‘ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যর্থতা বা গাফিলতি থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তবে সাম্প্রতিক অর্জনগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’
রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ নৃশংস ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফলে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ও কার্যকর বিচার। সেই প্রত্যাশা পূরণে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিচার করেছে আদালত। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। এমনকি ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিচার বিভাগের নির্ধারিত ছুটির সময়েও আদালতের কার্যক্রম চালু রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনগত অধিকারও সংরক্ষণ করা হয়েছে। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মামলায় সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, চিকিৎসক সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং পুলিশ সদস্যরাও সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।’
তিনি জানিয়েছেন, মামলার দুই আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাস এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এ মামলাটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টায় সরকার সবার সহযোগিতা পাবে।




