বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টোইওয়াতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার আমদানি বাড়িয়ে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বৈচিত্র্যময় করতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টোইওয়াতি। এ সময় দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, কনস্যুলার বিষয়, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার প্রবেশ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করেন তিনি।
জবাবে রাষ্ট্রদূত লিস্টোইওয়াতি ওষুধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি আরও বৈচিত্র্যময় করার বিষয়ে তার সমর্থনের কথা জানান।
বৈঠকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত লিস্টোইওয়াতি এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার পাশাপাশি ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।





