ইউএনসিটিএডে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএড)। জেনেভায় সংস্থাটির বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সহজীকরণে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য কার্যকর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগের পথে থাকা বাস্তব বাধাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।
নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, গত বছর ঘোষিত অঙ্গীকারগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইউএনসিটিএডের বিশেষ এক মূল্যায়নে ২০১৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা ও বিনিয়োগ সক্ষমতার উন্নতির বিষয়টি স্বীকৃতি পেয়েছে। সংস্থাটির বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিও অধিবেশনে তুলে ধরা হয়।
বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।





