এলএনজি টার্মিনাল আংশিক মেরামত চলছে টেস্টিং

সংগৃহীত ছবি
কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির (এফএসআরইউ) আংশিক মেরামত শেষে টেস্টিংয়ের কাজ চলছে। আজ-কালের মধ্যেই সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
যদিও এর আগে টার্মিনালটি চালুর তারিখ পিছিয়েছে অন্তত তিনবার। সর্বশেষ আশ্বাস ছিল, আংশিক মেরামত শেষে গত শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহে উন্নতির; কিন্তু তা হয়নি।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘আংশিক মেরামত শেষে ‘টেস্টিং’ চলছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবারের মধ্যে দুটি বয়লারের মধ্যে একটি চালু করে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। পুরোপুরি সচল হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
‘সরকারের তরফ থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করতে ৪-৫টি দেশ থেকে বিমানে খুব অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি এবং তা খালাস করা হয়েছে ত্বরিত গতিতে। কিন্তু মেরামত কাজটা খুবই জটিল এবং স্পর্শকাতর হওয়ায় সময় লাগছে’— বললেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান। এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান বললেন, টার্মিনাল চালু হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো সংকট হবে না। কারণ, চাহিদামতো এলএনজি কার্গোর জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত ২১ জুলাই দুর্ঘটনায় একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর তা কমে ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু হলে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট এবং পুরোপুরি চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩৮০ থেকে ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় কম-বেশি ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে আসে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসসংকট নিয়ে সরকারও বেশ উদ্বিগ্ন। নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে দ্রুত সময়ে পরিস্থিতি উন্নতির। গ্যাস দুর্ভোগের কারণে এরই মধ্যে একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি ফোন করে চেয়েছেন তার সহায়তা।




