মাহদী আমিন
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকরা ছিলেন অগ্রনায়কের ভূমিকায়

সংগৃহীত ছবি
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বললেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের এই ভূমিকা জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ, বিশেষ করে ডিআরইউর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানালেন, সাংবাদিক সমাজ এ আন্দোলনে অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত দেশীয় মৌসুমি ফল উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফলের প্রদর্শনী ও পরিবেশনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বললেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয় লাভ করেছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, বর্তমান সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বললেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বললেন, দেশীয় ফল শুধু আমাদের খাদ্যাভ্যাসের অংশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন জানান, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বললেন, গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীর মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) ইরাদুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি এম শফিকুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন লিটন, রাজু আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি গাযী আনোয়ার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন।
ফল উৎসবে ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, সুমন চৌধুরী, মো. আব্দুল আলীমসহ ডিআরইউর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ২২ ধরনের দেশীয় মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হয়।




