পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র প্রাকৃতিক ঝালের সন্ধান!

ইউফোরবিয়া রেজিনিফেরা
ঝাল বলতেই আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে মরিচের কথা। মরিচের ঝাঁজের জন্য দায়ী প্রাকৃতিক রাসায়নিক ক্যাপসাইসিন। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল প্রাকৃতিক যৌগের সঙ্গে তুলনা করলে ক্যাপসাইসিন যেন পানির মতো।
রেসিনিফেরাটক্সিন নামের এই যৌগটি ক্যাপসাইসিনের অনুরূপ। এটি পাওয়া যায় ইউফোরবিয়া রেজিনিফেরা নামের ক্যাকটাসসদৃশ উদ্ভিদে। এরা মূলত মরক্কোতে জন্মায়। এছাড়া নাইজেরিয়ার ইউফোরবিয়া পয়িসোনি উদ্ভিদেও এটি পাওয়া যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে ঝাল মরিচ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তালিকাভুক্ত পেপার এক্সের স্কোভিল স্কোর প্রায় ২৬ লাখ ৯০ হাজার। এই মাত্রার ঝালই অধিকাংশ মানুষের জন্য অসহনীয়। কিন্তু বিশুদ্ধ ক্যাপসাইসিনের স্কোর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ স্কোভিল ইউনিট। এটি মারাত্মক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। আবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
তবুও ক্যাপসাইসিনের সঙ্গে রেসিনিফেরাটক্সিনের তুলনা করা চলে না। এই যৌগটির স্কোভিল মান প্রায় ১৬ বিলিয়ন। অর্থাৎ ক্যাপসাইসিনের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এতটাই তীব্র যে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণেও এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য প্রায় অসহনীয়।
রেসিনিফেরাটক্সিন আসলে কোনো খাদ্য উপাদান নয়, বরং এক ধরনের রাসায়নিক অস্ত্রের মতো। এটি মানুষের শরীরে এমন মাত্রার ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, যা কোনো খাবারের ঝাল দিয়ে কল্পনাও করা যায় না। এর সংস্পর্শে এলে মারাত্মক রাসায়নিক দাহ হতে পারে এবং ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ুপ্রান্ত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
ক্যাপসাইসিন ও রেসিনিফেরাটক্সিন উভয়ই মানবদেহের টিআরপিভি১ রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে। তবে ক্যাপসাইসিন অল্প সময়ের জন্য এই রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। আর রেসিনিফেরাটক্সিন অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এতে আবদ্ধ হয়। ফলে স্নায়ুকোষে ক্যালসিয়াম আয়নের অতিরিক্ত প্রবাহ ঘটে। যা স্নায়ুপ্রান্তকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং ব্যথা অনুভূতির ক্ষমতা নষ্ট করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ইউফোরবিয়া রেজিনিফেরা উদ্ভিদটি তৃণভোজী প্রাণীদের দূরে রাখতে এই যৌগ তৈরি করে। এতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। সামান্য সংস্পর্শই মারাত্মক দাহ সৃষ্টি করতে পারে।
তাই আপনি যখন ঝাল মরিচ বা হট সস উপভোগ করবেন। তখন মনে রাখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল জিনিসটি এর কাছাকাছিও নয়।
সূত্র: অডিটিসেন্ট্রাল



