সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বের একপ্রান্তে ভেনেজুয়েলা, অন্যপ্রান্তে জাপান, আবার প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে ক্যালিফোর্নিয়া— এক দিনের ব্যবধানে একের পর এক ভূমিকম্পের খবর যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশেও উদ্বেগ বাড়ছে। তার ওপর ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চার মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এ সপ্তাহেই। সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে— আমরা কি বড় কোনো ভূমিকম্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?
তবে প্রশ্ন যত সহজ, উত্তর ততটা নয়। কারণ বিজ্ঞানীরা এখনো এমন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারেননি, যা বলে দিতে পারে ঠিক কবে, কোথায় এবং কত মাত্রার ভূমিকম্প হবে। সুতরাং আতঙ্ককে তথ্যের বিকল্প বানানোর সুযোগ নেই।
আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভূমিকম্প নয়, প্রস্তুতির ঘাটতি। ভূমিকম্প হলে মানুষ যতটা না কম্পনে ভয় পান, তার চেয়ে বেশি ভয় ভবনের গুণগত মান নিয়ে। কারণ কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও দুর্বল অবকাঠামোর ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সুতরাং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং নিরাপদ নগর-পরিকল্পনা ও বিল্ডিং কোডের বাস্তবায়ন।
মজার বিষয় হলো, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ ভবিষ্যদ্বাণী শুরু করেন, কেউ আবার পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে আসার ঘোষণা দেন। অথচ বিজ্ঞান বলছে, ছোট ভূমিকম্প মানেই বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়। সুতরাং ফেসবুক বিশ্লেষকের চেয়ে ভূতত্ত্ববিদের কথা শোনাই বোধহয় বেশি যুক্তিসংগত।
বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত— এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। কিন্তু ঝুঁকির সঙ্গে বসবাস করা আর ঝুঁকিকে অবহেলা করা এক জিনিস নয়। সুতরাং ভয় নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, মহড়া, নিরাপদ ভবন এবং কার্যকর প্রস্তুতি। কারণ ভূমিকম্প কবে হবে, তা হয়তো আমরা জানি না, কিন্তু প্রস্তুতি নেব কি না— সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আমাদের হাতেই।




