দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কালে কালে কত কিছু দেখবে মানুষ! মায়াবী পৃথিবীর মানুষগুলোই নাকি মায়াশূন্য হয়ে যাবে ভবিষ্যতে! প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতির বালাই থাকবে না অন্তরে। অতি আধুনিকতার দাবদাহে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে আবেগ। পুড়ে খাক হবে অনুভূতি! নিরুপায় হয়ে হাট থেকে কিনতে হবে এক ছটাক আবেগ! দুই গ্রাম অনুভূতি! হ্যাঁ; এটিই নাকি মানুষের ভবিষ্যৎ! গরু-ছাগলের মতো বিক্রি হবে আবেগ! ২০৪৫ সালের অনলাইন বাজারেই মিলবে এ পণ্য।
আসছে দিনে এমন এক বাজার-সদাইয়ের মন্তব্যই করেছেন লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রযুক্তিবিষয়ক কেন্দ্রের প্রধান অ্যালেক্স আয়াদ। তার এ ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ২০১৫ সালেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
সুপারশপের (অনলাইন) চোখ ঝলসানো মোড়কে ঠাসা থাকবে আবেগ-অনুভূতির বাজার। যার যতটুকু প্রয়োজন, নিয়ে যাবে থলে ভরে (মস্তিষ্ক)। এককথায়, যার যে অনুভূতি বা আবেগের অভাব; তা বাজারে গিয়েই কিনতে হবে ভোক্তাদের। একালের মাছের হাটের মতো থাকবে দরদামের সুযোগও। কীভাবে কাজ করবে সে প্রযুক্তি? এ বিষয়েও জানিয়েছেন আয়াদ। বলেছেন, ব্রেন স্টিমুলেশন টেকনিক অর্থাৎ মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে মৃদু বৈদ্যুতিক তরঙ্গ আরোপ করে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তিটি। একটা একটা করে ব্রেনের প্রতিটি কোষে একে একে ‘ইনস্টল’ করা যাবে অনুভূতি। বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ২০৪৫ সালের মধ্যেই বিজ্ঞান এটিকে উন্নত করতে সক্ষম হবে বলে তার আত্মবিশ্বাস। সে সময় ঘরে ঘরে থাকা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মতোই উচ্চগতি ধারণ করবে এ প্রযুক্তি। আর তা যদি আসলেই সত্য হয়, তাহলে ‘তুমি অনেক ইমোশনাল’ বা ‘তোমার কোনো ইমোশনই নেই’ এসব কথা হয়তো আর শুনতে হবে না কাউকে। অর্থাৎ ১৯ বছর পর কোনো লেখক নাট্যকার হাজার চেষ্টায়ও রচনায় আবেগ আনতে না পারলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তখনই হয়তো মাথায় চলে আসবে, অনলাইনে তো ‘দুঃখ-কষ্ট-বেদনা’ অনুভূতি প্যাকে অফার চলছেই! যে ভাবনা সেই কাজ। সঙ্গে সঙ্গে কিনে নেবেন সে ‘আবেগ’। ‘অপ্টোজেনেটিকস’ দিয়ে সে অনুভূতি আবার নিজের মধ্যে নিয়ে দিব্যি বসে পড়বেন টেবিলে! লিখে ফেলবেন আরেক ‘বিষাদ সিন্ধু’। কিংবা গোপালভাঁড়ের রম্য!




