বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অসুস্থতা মানুষের জীবনের অংশ। প্রাণ আছে তো ছোট, বড় রোগও আছে! হাসপাতালে গিয়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য কতশত টেস্ট দেন চিকিৎসক। সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়ে মানুষ সাধারণত খোঁজে স্বস্তি। তবে সেই রিপোর্টই যদি হয় মিথ্যা? যে রোগ শরীরে বাসা বাঁধেনি, রিপোর্ট দেখাচ্ছে দেহে সেই রোগের অস্তিত্ব। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ভয়ংকর সম্ভাবনার নাম মেডিকেল ডিপফেক। ২০৮০ সালে প্রতিটি হাসপাতালে মিলবে এমন নকল রিপোর্ট। ডিপফেক প্রযুক্তি শুধু মুখ বদলে ভিডিও বানানোর গল্প নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মেডিকেল ছবিতেও সম্ভব এই প্রযুক্তি দিয়ে কারসাজি করা। ভবিষ্যতের চিকিৎসা খাতের ভয়ংকর এই চিত্র ২০২৩ সালে দেখেছে কানাডার ভবিষ্যৎবিষয়ক ওয়েবসাইট কোয়ান্টামরান ফোরসাইট।
ভবিষ্যতে আসল স্ক্যানে শরীরে যেখানে টিউমার নেই, সেখানে বসিয়ে দেওয়া যাবে টিউমার। আবার সত্যিকারের টিউমার ফেলা যাবে মুছেও। ফলাফল দুদিকেই ভয়ংকর। নকল টিউমারের কারণে একজন সুস্থ মানুষ নিতে পারেন অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা। বাড়তে পারে তার খরচ। আর এসবই হবে ডিপফেক ব্যবহার করে। এটি এমন এক ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন বা কারসাজি, যার উদ্দেশ্য মূলত কাউকে বিশ্বাস করানো যে তার সামনে থাকা ছবি বা ভিডিওটি আসল। ২০৮০ সালে স্বাস্থ্যসেবা খাতে, মেডিকেল ডিপফেকের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়কারী বিভিন্ন ছবি, যেমন, এক্স-রে বা এমআরআই করা হতে পারে বিকৃত। গুরুতর এই অপরাধের পেছনে থাকবে বড় সাইবার চক্র। হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কারী কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার লক্ষ্যে এবং রোগীদের রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেই সাইবার অপরাধীরা ডিপফেকের নতুন এই কৌশল বেছে নেবে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডিপফেক অপ্রয়োজনীয় বা ভুল চিকিৎসার দিকে নিয়ে যেতে পারে মানবজাতিকে। এতে ঘটতে পারে আর্থিক ক্ষতি ও প্রাণহানির মতো ঘটনা। সঙ্গে সাইবার যুদ্ধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডিপফেক। ২০৮০ সালে এটি করতে পারে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ব্যাহত। আরও করতে পারে সরকার বা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল।



