বিলুপ্তির পথে রাতচরা পাখি

সংগৃহীত ছবি
বিলুপ্তপ্রায় পাখিটির নাম ‘রাতচরা’। এর গায়ের উপরের রঙ হলদেটে-ধূসর মিশ্রিত কালো ছিট। ঘাড়ের পাশে লালচে কালো ছাইরঙা ছোপ। চোখের পাশ থেকে চিবুক পর্যন্ত রয়েছে অল্পকটি খাড়া লোম। লেজ ও ডানা কিছুটা লম্বা। বুক থেকে পেট পর্যন্ত রয়েছে আড়াআড়ি ডোরা দাগ। গলায় হালকা সাদা বন্ধনী। লেজের তলার পালক ফিকে রঙের। পা লালচে-বেগুনি।
স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম মনে হলেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যটি হচ্ছে স্ত্রী পাখির লেজের প্রান্ত হলদেটে-লালের মিশ্রণ।
বিরল এ পাখিটির সন্ধান মেলে ঘাটাইল উপজেলার কাজলা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক সেন্টুর বাড়িতে। সেখানে পাখিটি বাসা বেঁধে ডিমে তা দিচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সৌখিন ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
গতকাল ৬ মার্চ সেখান থেকেই তিনি পাখিটির ছবি তুলতে সক্ষম হন। তিনি জানান, পাখির আবাসস্থল নষ্ট হওয়ার কারনে রাতচরার মতো অনেক পাখিই আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের সকলেই উচিৎ পাখির আবাসস্থল নষ্ট না করে তাদের আবাসস্থল তৈরি করে দেয়া।
রাতচরা একটি আবাসিক পাখি। গায়ের রং শুকনো ডালপালা বা মরা পাতার মতো হওয়ায় মাটিতে বসে থাকলে মনে হয় শুকনো পাতা পড়ে আছে। তাই মাটিতে বসে থাকলেও এদের সহজে সনাক্ত করা যায় না। বর্ণচোরা বিধায় নিরাপদে থাকার সুযোগ পায়। একসময় ঝোপঝাড় ও বাঁশঝাড়ে এদের বেশি দেখা যেত। ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো এদের চোখ পড়ে না।
পাখিটির ইংরেজি নাম (নাইটজার) বৈজ্ঞানিক নাম (ক্যাপরিমুলগুস মাহরাটেনসিস)। এ প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ২৫-৩৩ সেন্টিমিটার। সর্যাস্তের খানিকটা পরেই ঝোপজঙ্গলের ভিতর থেকে ‘চউঙ্ক-চউঙ্ক-চউঙ্ক’ সুরে ডাকতে শুরু করে ।
রাতচরা পাখির প্রধান খাবার কীটপতঙ্গ। রাতের বেলার যেসব কীটপতঙ্গ ঘুরে বেড়ায় সেগুলোই সে শিকার করে। এসব পাখির প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুন। গাছে নয় সরাসরি মাটির উপরে বাসা বাঁধে। শুকনো পাতা জড়ো করে তার উপরে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ২টি। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০দিন।

