কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সার! রোদ-বৃষ্টি-ঠান্ডা উপেক্ষা করে কৃষকদের ফসল ফলানোর অন্যতম প্রধান উপাদান। অথচ চলতি মৌসুমে দেশে চলছে সার সংকট। সংকটের মাত্রা এতটাই বেশি, কৃষকরা সার লুট করতে বাধ্য হয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে হয় সার লুট। সেখানে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদাম ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া সার লুট করেন কৃষকরা। পরে অবশ্য প্রশাসনের উদ্যোগে বেশিরভাগ বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর সার নিয়ে নানা উদ্যোগের কথা জানায় সরকার। তবে সংকটের সুরাহা হয়নি। গতকালও সার বিতরণকে কেন্দ্র করে দেশের একাধিক জেলায় হয়েছে বিক্ষোভ-অবরোধ ও লুটের ঘটনা। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি গুদাম ভেঙে লুট করেন কয়েক বস্তা সার। সংশ্লিষ্টা মনে করছেন, এমন সংকট চলতে পারে আরও কিছু দিন। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষি যদি শুধু রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর না করে জৈব সারের ব্যবহারে গুরুত্ব দিত, তাহলে চিত্রটা কিছুটা হলেও ভিন্ন হতো।’
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে মূলত ব্যবহার হয় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বোরিক অ্যাসিড। এগুলোর সবই রাসায়নিক সার। অত্যধিক ব্যবহারে এসব সার শুধু ফসলের ক্ষতিই করে না, মানবদেহ ও পরিবেশে পড়ে এর বিরূপ প্রভাব। কিন্তু জৈব সার ব্যবহারের সংস্কৃতি থাকলে সাম্প্রতিক সংকট ও লুট কিছুটা হলেও বোধহয় এড়ানো যেত। জৈব সার মূলত উদ্ভিদ, খনিজ বা অণুজীব উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক উপাদান। কৃষকদের ঘরে থাকা উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা অবশিষ্টাংশ থেকেই তৈরি করা যায় জৈব সার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে কৃষি সমাজে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যতে রাসায়নিক সার লুটের ঘটনা বিলুপ্তের সঙ্গে হতে পারে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষা।





