যদি

রাজধানীতে বাস করা যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন হলো বাসার আবর্জনা কোথায় ফেলবেন, সেই জায়গা খুঁজে বের করা। প্রতিদিনই আপনাকে ভাবতে হবে, আজ ময়লা নিতে আসবে তো? আজ না এলে কাল, না হয় পরশু? এভাবেই শুধু অপেক্ষা! তবে চিন্তার কিছু নেই। রাজধানীবাসী হিসেবে আপনি যদি একটু বুদ্ধিমান হন, তাহলে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনের প্রয়োজনই হবে না! বিশেষ করে, কোনো প্রাণী মারা গেলে তো কথাই নেই!
ধরুন, আপনার বাসায় একটি বিড়াল মারা গেল। প্রথমে মন খারাপ করবেন, তারপর ভাববেন— ‘এখন এটাকে ফেলি কোথায়?’ খুব সহজ। দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানে এমন একটি জায়গা খুঁজে বের করুন, যেখানে সাধারণত কেউ যায় না। সেখানে রেখে আসুন। কাজ শেষ!
এবার ধরুন, রাতে পেতে রাখা খাঁচায় একটি ইঁদুর ধরা পড়েছে। ইঁদুরটিকে মেরে ফেললেন। এখন প্রশ্ন— কোথায় ফেলবেন? সোজা সিঁড়ির গোড়ায় চুপচাপ রেখে দিন। কারণ, সিঁড়ির গোড়া এমন এক জায়গা, যেখানে আবর্জনা রাখলে তা সবার নজরে পড়ে, অথচ কেউই এর দায়িত্ব নেয় না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, সিঁড়ির গোড়ায় একটি কুকুর মরে পড়ে আছে। এবার বিষয়টি একটু বড়। প্রথমে সিকিউরিটিকে ডাকুন। তারপর নাকে কাপড় বেঁধে দুজন মিলে অনেক কষ্টে কুকুরটিকে টেনেটুনে রাস্তার পাশে নিয়ে যান। তবে রাস্তার পাশেও নয়— সম্ভব হলে সড়ক বিভাজকের ওপর। সেখানে রাখলে গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে না, আবার পথচারীরাও প্রতিদিন একটু করে ‘প্রকৃতির ঘ্রাণ’ উপভোগ করতে পারবেন!
রাজধানীতে আবর্জনা ফেলার আরও অনেক আধুনিক পদ্ধতি আছে। বাসার বারান্দা অথবা জানালা দিয়ে দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানে ছুড়ে মারা— সবাই ‘ধপাশ’ শব্দটা টের পাবে, তবে আপনি ধরা পড়বেন না। তা ছাড়া ফুটপাতকে ডাস্টবিন ভেবে ব্যবহার করা— এসবই আমাদের নাগরিক সংস্কৃতির অংশ!
গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ঘটনা আমার নজরে এসেছে। হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজার সামনে মরা বিড়াল রেখে যাওয়া, গুলিস্তানে একটি কুকুর এবং ফকিরাপুলে গন্ধযুক্ত বস্তা—সবই মূল সড়কে।
মজার ব্যাপার হলো, আমরা সবাই পরিচ্ছন্ন ঢাকা চাই। কিন্তু নিজের হাতে থাকা ছোট্ট আবর্জনাটুকু ডাস্টবিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই না। যেন ডাস্টবিন পর্যন্ত হাঁটলে আমার নাগরিকত্বের মর্যাদা কমে যাবে!
তাই রাজধানীকে পরিষ্কার রাখতে নতুন কোনো জাদুর প্রয়োজন নেই। শুধু আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেললেই হয়। কারণ, শহরটি আমাদের সবার— কিন্তু ডাস্টবিনটি কারও একার নয়, সবার!



