মুখের কোন জিনিস না থাকলে বদলে যাবে খাবারের স্বাদ

সংগৃহীত ছবি
খাবার খেতে পছন্দ করেন না—এমন মানুষ নেই বললেই চলে। কেউ মিষ্টি পছন্দ করেন, কেউ ঝাল-টক আবার কেউ নোনতা খাবার। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, এই স্বাদগুলো সঠিকভাবে গ্রহণ করার পেছনের রহস্য। খাবারের স্বাদ পুরোপুরি পেতে হলে আপনার মুখের একটি বিশেষ উপাদান অপরিহার্য।
মুখের ভেতরের সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হচ্ছে লালা। এটি না থাকলে আপনি অনুভব করতে পারবেন না কোনো খাবারের স্বাদ। কারণ স্বাদ বুঝতে হলে মুখের ভেতর ভেজা থাকা জরুরি। শুষ্ক মুখে স্বাদ যেন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, ঢুকতেই পারে না ভেতরে।
স্বাদ অনুভব শুধু জিহ্বার কাজ নয়। শরীর যাতে এগুলো চিনতে পারে, তার জন্য রাসায়নিক উপাদানগুলোর কিছু সাহায্য দরকার। এগুলো প্রথমে দ্রবীভূত হতে হয়, যা শুধু লালার সাহায্যে সম্ভব।
লালা না থাকলে সেই উপাদানগুলো ভেঙে এমন অবস্থায় যেতে পারে না, যা স্বাদগ্রাহী কোষ শনাক্ত করতে পারে।
খাবার মুখে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ভাঙতে শুরু করে লালা। এর ফলে খাবারের স্বাদবাহী রাসায়নিকগুলো এমন রূপ নেয়, যা যুক্ত হতে পারে স্বাদগ্রাহী কোষের সঙ্গে। এরপর মস্তিষ্কে সংকেত পৌঁছায়, আর আমরা বুঝতে পারি—খাবারটি মিষ্টি, লবণাক্ত, টক না তেতো।
এই ধাপটি ঠিকমতো না হলে থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়াই। আর ঠিকভাবে পৌঁছায় না সংকেত। ফলে ম্লান লাগে বা আগের মতো তীব্রভাবে অনুভূত হয় না স্বাদ।
এই কারণেই মুখ শুকনো থাকলে খাবারের স্বাদ আলাদা লাগে। আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন—পানি কম খেলে, অসুস্থ থাকলে বা কিছু ওষুধ খাওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে অনেকটাই কমে যায় খাবারের স্বাদ। তখনও কাজ করা বন্ধ করে না স্বাদগ্রাহী কোষগুলো। কিন্তু পর্যাপ্ত লালা না থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য পায় না তারা।
তবে লালার কাজ শুধু স্বাদে সীমাবদ্ধ নয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে হজম প্রক্রিয়াতেও। খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছানোর আগেই শুরু করে ভাঙা। পাশাপাশি এটি মুখকে আর্দ্র রাখে, চিবানো ও গিলতে সাহায্য করে এবং সুরক্ষা দেয় দাঁতকে। অম্ল নিরপেক্ষ করে ও ধুয়ে ফেলে খাবারের কণা।
স্বাদের ক্ষেত্রে লালার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ছোট্ট উপাদানটাই খাবারের আসল স্বাদকে জীবন্ত করে তোলে।
সূত্র: নিউজ ১৮

