কে-পপ তারকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে দুই কিশোরীকে পাচারের চেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ডে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই ১২ বছর বয়সী কিশোরীকে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা পুলিশ শেষ মুহূর্তে তাদের উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ওই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তারা সেখানে কয়েকজনের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরিকল্পনা ছিল, কলকাতা থেকে আরও চারজন এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে। এরপর জয়গাঁও সীমান্ত দিয়ে ভুটানে এবং সেখান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়া হবে।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী জানায়, প্রায় সাত মাস আগে একটি সামাজিক মাধ্যমে কলকাতার এক নারী ও বাংলাদেশের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ওই নারী অনলাইনে তাদের কোরিয়ান ভাষা শেখার ব্যবস্থা করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ডে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই দুই কিশোরী স্কুল থেকে বেরিয়ে সরাসরি মালদহে যায় এবং সেখান থেকে বাসে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ছিল না। পরিবারের মোবাইল ব্যবহার করেই পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুই কিশোরী মালদহ ছাড়ার পরই যোগাযোগকারী ওই কলকাতার নারী সামাজিক মাধ্যম থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। বাংলাদেশের এক ব্যক্তিও নিয়মিত দুই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ফলে আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে সংস্থা।
এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। মালদহ পুলিশ সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র নতুন কৌশলে কিশোরী ও নাবালিকাদের টার্গেট করছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং চক্রটির বিস্তৃতি কতদূর— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






