দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আনুমানিক ১০০ বছর ধরে মানুষের পরিচয় গড়ে উঠেছে আধুনিক অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে। ছোটবেলায় যদি একজন ব্যক্তির পরিচয় শিক্ষার্থী হয়ে থাকে তাহলে পড়ালেখা শেষে তার পরিচয় হয় ডাক্তার, আইনজীবী, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক বা অন্যান্য পেশা। বিষয়টা প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনেই অনেক স্বাভাবিক। বর্তমানে চাকরি শুধু মাসের শেষে বেতন এনে দেয় না; নিজের সম্পর্কে বলার মতো একটা গল্পও দেয়। এখন সেই গল্পে ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির এই অংশটি কম-বেশি সব কাজ করে দিতে পারে মুহূর্তেই। ২০৫০ সালের মধ্যে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে নিজস্বতা হারিয়ে ফেলবে মানুষ! নিজের অস্তিত্ব বা পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়বে সবাই। ভবিষ্যতের এমন একটি ভয়ংকর পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎবিদ এবং লেখক থমাস ফ্রে। চলতি মাসেই নিজের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রের মতে, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ দুটি বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করে নিজেদের পরিচয় জেনে এসেছে, অন্য মানুষ এবং প্রাকৃতিক জগৎ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে হয়ে উঠেছে তৃতীয় একটি আয়না। এ এআই শুধু চ্যাটবক্সে কথা বলে না, সবকিছু মনে রাখে এবং হয়তো শিগগিরই সে একজন ব্যক্তির সম্পর্কে তার নিজের থেকেও বেশি জানবে। ফ্রের বিশ্বাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেতনার অনন্য বা বিশেষ হওয়ার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়বে। কেননা যখন কোনো যন্ত্র আইনি নথির খসড়া তৈরি করতে পারে, বিরল রোগ শনাক্ত করতে পারে, গল্প-কবিতা রচনা করতে পারে এবং শোকার্ত কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিতে পারে, তখন বুদ্ধিমত্তা ও সহমর্মিতা যে শুধু মানুষেরই বৈশিষ্ট্য, সেই পুরনো ধারণাটি ভুল প্রমাণ হতে শুরু করে। তবে এই পরিচিতি-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার মোকাবিলায় সমাজের সামনে তিনটি প্রধান বিকল্প রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ফ্রে। প্রথমটি প্রতিরোধ, যেখানে এআই শক্তিশালী হয়ে উঠলেও মানুষ ধরে রাখবে তাদের কাজের কৌশল ও দক্ষতা। দ্বিতীয়টি মানুষ এবং মেশিনের যৌথভাবে কাজ করা; এবং তৃতীয়টি ভারসাম্য, যেখানে মানুষ অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে এআই। বাকি সময়ে তারা ব্যবহার করবে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল।



