৪০ বছর পর ফিরিয়ে দিলেন চুরি করা বই, সঙ্গে ১০০ ডলার

সংগৃহীত ছবি
বুকলেগার নামে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বইয়ের দোকানে সোমবার পার্সেলে একটি রহস্যময় প্যাকেট আসে। বাবল র্যাপ দিয়ে মোড়ানো প্যাকেটটি ঠিক কিসের তা বুঝতে পারছিলেন না দোকানের মালিক জেনিফার ম্যাকফ্যাডেন। পরে প্যাকেট খুলে যা দেখতে পেলেন তা অভিভূত করেছে জেনিফার ও তার দোকানের কর্মীদের। ৪০ বছর আগে চুরি করে নেওয়া একটি বই ফিরিয়ে পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে লিখে পাঠিয়েছেন একটি চিঠি।
বুকলেগারের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, আমরা ডাকে একটি ছোট প্যাকেট পেয়েছি, কিন্তু হাতে লেখা প্রেরকের ঠিকানাটি পড়তে পারিনি। আমাদের কোনো ধারণা ছিল না যে, ওটা কোনো বইয়ের প্রচারমূলক কোনো সামগ্রী ছিল, নাকি অন্য কিছু। তবে শেষ পর্যন্ত প্যাকেটটির ভেতর এমন অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়স্পর্শী কিছু পেলাম যে আমাদের চোখে জল এসে গিয়েছিল।
পোস্টে লেখা হয়েছে, প্রেরক ৪০ বছরেরও বেশি আগে আমাদের দোকান থেকে এডওয়ার্ড গোরির একটি সংগ্রহযোগ্য বই চুরি করেছিলেন। সেটিই তিনি ফেরত পাঠিয়েছেন। আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ১০০ ডলারের একটি নোটও পাঠিয়েছেন। অতীতের কোনো ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে, তা যতই দেরিতে হোক না কেন, সাহসের প্রয়োজন হয়।
বইটির সঙ্গে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন ওই ব্যক্তি। লিখেছেন, এডওয়ার্ড গোরির প্রথম সংস্করণটি আপনাকে ফেরত দিচ্ছি, কারণ ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে কোনো এক সময় আমি এটি আপনার দোকান থেকে চুরি করেছিলাম। আমি তখন এইচএসইউ-এর একজন ছাত্র ছিলাম এবং আমার মাদক ও মদের ভয়াবহ সমস্যা ছিল।
তিনি লিখেছেন, আমার প্রচণ্ড অর্থের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন ছিল জীবনে একটি আধ্যাত্মিক জাগরণের। শেষ পর্যন্ত আমি এমনই এক মানসিক পরিবর্তনের আশীর্বাদ পেয়েছিলাম। এরপর আমি আমার অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিতে শুরু করি এবং জীবনকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করি।
তবে ছোট্ট এই বইটি আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। গত সপ্তাহে পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ এটি আমার চোখে পড়ে। দোকানটি এখনো চালু আছে দেখে আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। এতে বইটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আমার নীতিবোধের চরম অভাবের জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগও পেলাম।




