সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভবিষ্যতের এক সকালে চোখ খুলেই মনটা ভারী ভারী লাগা শুরু করল। স্মার্টফোন হাতে নিতেই খেয়াল হলো কোনো নোটিফিকেশন দেখাচ্ছে না যন্ত্রটি। কী অদ্ভুত! প্রতিদিন তো দেশ-বিদেশের সব খবর একবারে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে মোবাইল ফোনটি। যা টুকটাক খবর দেখাচ্ছে, তাও নেতিবাচক জিনিস ফিলটার করে তারপর সামনে দিচ্ছে। শুধু হাতের স্মার্টফোনটাই না, কাজে যাওয়ার গাড়িটাও নিজ থেকে আস্তে চলছে। ২০৪৫ সালে মানবজাতির আশপাশে থাকা প্রতিটি যন্ত্র বুঝতে পারবে তাদের আবেগ ও মনের অবস্থা। সেটির ওপর বিচার করে যন্ত্রগুলো পরিবর্তন করবে তাদের কর্মক্ষমতা। আসছে বিশ্ব নিয়ে এমনটাই ধারণা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ রিচার্ড ওয়াটসনের। তার এই পূর্বাভাস নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন করে দ্য টেলিগ্রাফ।
রিচার্ডের মতে, ভবিষ্যতে ফোন, গাড়ি বা বাড়ি সবই বুঝতে পারবে মানুষের অনুভূতি। ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থা বা আবেগ বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে যন্ত্রগুলো। বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্র, যেমন— স্মার্টফোন শুধু বুঝতে পারে কে কোথায় আছেন, তিনি কে এবং হয়তো তিনি কী করছেন বা কী পছন্দ করেন। এগুলোর সবই ডিভাইসটি বুঝতে পারে অ্যালগরিদম বা ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের ‘প্যাটার্ন ইউজেস’ অর্থাৎ অভিন্ন ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে। তবে পরবর্তী ধাপে যন্ত্রগুলো মানুষের অনুভূতিও বুঝতে পারবে ভবিষ্যতে। মুখের অভিব্যক্তি, শারীরিক ভাষা, হৃৎস্পন্দনের গতি, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি বিষয় বিশ্লেষণ বা পর্যবেক্ষণ করে এটি করা সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে রিচার্ড লিখেছেন, ‘যেমন ধরুন, আপনি যখন কম্পিউটারে কিছু টাইপ করছেন, তখন আপনার টাইপ করার গতি দেখে কম্পিউটার বুঝতে পারে যে আপনি মানসিক চাপে আছেন; ফলে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নেতিবাচক কোনো ইমেইল পড়ার জন্য এটি আপনার উপযুক্ত সময় নয়।’





