সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মেঘলা দুপুর। আনিস সাহেব বারান্দার ইজি চেয়ারে বসে চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে আছেন। তার হাতে চা। মুখটা কেমন গম্ভীর। পাশে তার ছোট মেয়ে রোদেলা পিঁড়িতে বসে আঁকাআঁকি করছে। রোদেলার বয়স সাত, কিন্তু কথাবার্তা একদম সতেরো বছরের মেয়ের মতো। চশমার ফাঁক দিয়ে তার চোখ দুটি সব সময় কিলবিল করে।
‘বাবা?’
‘বলো।’
‘তুমি কি জানো, মেঘ কেন কালো হয়?’
আনিস সাহেব চায়ে ছোট্ট এক চুমুক দিয়ে ইজি চেয়ারে হেলান দিলেন।
‘বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা শুনবি, নাকি আমার ব্যাখ্যা?’
রোদেলা আঁকাআঁকি থামিয়ে বলল, ‘বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা তো স্কুলেই শুনি। মিস বলেছেন, বাষ্প জমে নাকি জলকণা হয়। তুমি তোমার ব্যাখ্যাটা বলো।’
আনিস সাহেব হালকা হেসে বললেন, ‘তাহলে শোন। মেঘের মন যখন খুব খারাপ হয়, তখন সে কালো হয়ে যায়। আর যখন সেই মন খারাপ সহ্য করতে পারে না, তখন টুপটুপ করে কেঁদে ফেলে। মানুষ ওটাকে ভেবে নেয় বৃষ্টি।’
রোদেলা কিছুক্ষণ একদম চুপ করে রইল। তারপর পেনসিলটা রেখে চশমার ওপর দিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল, ‘তোমার মন কি আজকে মেঘের মতো বাবা?’
আনিস সাহেব হঠাৎ চমকে উঠলেন। সকালে তিনি খবর পেয়েছেন, তার ছোটবেলার বন্ধু হাসান আর নেই। হাসানের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে, এক ক্যাফেতে। খবরটা তিনি সারাদিন কাউকে বলেননি। এমনকি রোদেলার মাকেও না।
তিনি গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে রোদেলার মাথায় হাত রাখলেন।
‘আমার মন কি কালো দেখাচ্ছে?’
‘হুম। খুব কালো। তোমার চোখের ভেতরে অন্ধকার।’
ঠিক তখনই ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। রোদেলা লাফিয়ে উঠে বারান্দার গ্রিল দিয়ে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘দেখেছ? তোমার মন খারাপের বৃষ্টি নেমেছে, তাই না বাবা?’
আনিস সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু মেয়ের ভেজা হাতের দিকে তাকিয়ে রইলেন।



