কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি যেন থামতেই চাইছিল না। কখনো অঝোরে, কখনো টিপটিপ, কখনো ঝুম— আকাশ তার সব জমে থাকা আবেগ যেন উজাড় করে দিয়েছে শহরের বুকে, গ্রামে। এতে অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন, কারণ, জীবন-যাত্রার ব্যাঘাত ঘটেছে বলে! জলজট ছিল অনেক জায়গায়, ভোগান্তির গল্প বলেছেন নানাজন। কিন্তু এই অবিরাম বৃষ্টিরও একটি নীরব সৌন্দর্য দেখেছি আমি, মনের জানালা দিয়ে তাকালে আপনারাও দেখতে পারতেন।
বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে পথের ধুলো, পরিষ্কার হয়ে গেছে জমে থাকা পথের ময়লা। ব্যস্ত নগরীতে যেন লেগেছে সতেজতার ছোঁয়া। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে সুন্দর সাক্ষী যেন হাতিরঝিল। মনে হয়, শহরের বুকের এই জলরাশি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পানিতে ভেসে ওঠা আকাশের আবছা মেঘ, হালকা বাতাসে দুলে ওঠা গাছের ছায়া আর নির্মল পরিবেশ— সব মিলিয়ে হাতিরঝিলে যেন আবারও জেগে উঠেছে নতুন সৌন্দর্য।
গতকাল সোমবার দুপুরে ঘণ্টাখানেক বসেছিলাম হাতিরঝিলের একটি বেঞ্চে। চা-বাদামওয়ালা তো আসছেনই, আসছেন ফুল বিক্রেতাও। কিন্তু এগুলো আমাকে টানল না। একটু দূরে আইসক্রিমের দোকান ছিল, আইসক্রিম খেলাম। মূলত আইসক্রিম খাওয়া নয়, হাতিরঝিলকে উপভোগ করাই আমার উদ্দেশ্য। হাতিরঝিল দেখলে চোখ জুড়ায়, আর আইসক্রিম যদি মন জুড়ায় তবে সমস্যা কী?
হয়তো সন্ধ্যা নামলে দৃশ্যটা আরও মোহময় হয়ে উঠবে, কারণ বৃষ্টি নেই। আছে পরিচ্ছন্ন এক হাতিরঝিল। স্নিগ্ধ বাতাস ক্লান্ত মানুষকে কতটা শান্তি এনে দেয়, তা দেখবেন সকালে যেসব মানুষ হেঁটে বেড়ায়, তাদের মনে। কেউ হাঁটছেন প্রিয়জনের হাত ধরে, কেউ বেঞ্চে বসে নীরবে দূরে তাকিয়ে আছেন, কেউ ফোনে কথা বলছেন প্রিয়জনের সঙ্গে। আবার কেউ শুধু শহরের এই নতুন রূপটুকু চোখভরে দেখছেন। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এমন কিছু মুহূর্তই হয়তো মানুষকে নতুন জীবন দেয়।
বৃষ্টি কি শুধু সবকিছু ভেজায়? না। কখনো কখনো ধুয়ে দেয় মনের ক্লান্তি, মানুষের মন আর জীবনের একঘেয়েমিও কাটায় বৃষ্টি। তাই টানা বৃষ্টির পর নতুন সাজে সেজে ওঠা হাতিরঝিলকে দেখে মনে হচ্ছে, প্রকৃতি যেন নিঃশব্দে বলে দিচ্ছে— যত ধুলোই জমুক, যত ক্লান্তিই গ্রাস করুক, একদিন না একদিন সব মুছে যায়। তারপর আবারও নতুন করে শুরু হয় সৌন্দর্যের, স্বস্তির আর আশার গল্প।
যদি এমন হতো— সবকিছুর ময়লা ধুয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনের ময়লাও যদি এভাবে ধুয়ে যেত! ইশ!!




