হয় তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘চোখে না পড়লেই বাঁচি!’ জীবনে একবার হলেও এ ভাবনা এসেছে সবার মাথায়। সে ক্লাসে বসে স্যারের পড়া জিজ্ঞেস করার সময় হোক বা অপছন্দের মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময়ের ক্ষেত্রে। অনেক সময় মনে ভাবনা আসে, উধাও হয়ে যেতে পারলে হয়তো বেশ ভালোই হতো! বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কেও ঘুরপাক খাচ্ছে এই একই চিন্তা। তবে কোনো খারাপ পরিকল্পনা থেকে নয়। বরং তারা পথ খুঁজছেন মানুষকে নয়, কীভাবে তাদের আশপাশের কুৎসিত জিনিসগুলোকে গায়েব করে দেওয়া যায়। সুন্দর ঝকঝকে একটি মডার্ন শহরে নির্মাণাধীন একটি বিল্ডিং বা গর্তে ভরা রাস্তা উধাও করে দিতেই বিজ্ঞানীর দল চালিয়ে যাচ্ছে গবেষণা। যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের টেক ফোর্সাইট প্র্যাকটিসের প্রধান অ্যালেক্স আয়াদের বিশ্বাস, ২০৪৫ সালেই এমন একটি প্রযুক্তি আসবে, যা ব্যবহার করে অপছন্দের যেকোনো কিছু বেমালুম গায়েব করে দিতে পারবে মানুষ! তার এই বিচিত্র পূর্বাভাস নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে দ্য টেলিগ্রাফ।
মজার বিষয়, জিনিসপত্র অদৃশ্য করতে জাদুকরের মতো কোনো জাদুর চাদরের দরকার নেই। আয়াদের মতে, বিশেষ এ প্রযুক্তির পেছনে থাকবে আলো, গণিত আর ন্যানোটেকনোলজির খেলা। অদৃশ্য হওয়ার ব্যাপারটা অনেক বছর ধরেই আকর্ষণ করছে মানবজাতিকে। গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানীরা গণিতের সাহায্যে বুঝতে পেরেছেন, এমন একধরনের কৃত্রিম পদার্থ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যার ভেতরে থাকবে খুব ছোট ও জটিল গঠন। এটি রাখবে আলো ও শব্দকে বাঁকানোর ক্ষমতা। বিজ্ঞানীরা এ পদার্থগুলোর নাম দিয়েছেন মেটাম্যাটেরিয়াল। ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, কোনো বস্তুকে অদৃশ্য করার পদ্ধতি নীতিগতভাবে কাজ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটি শুধু অল্প কিছু নির্দিষ্ট রঙের আলো এবং নির্দিষ্ট কিছু দিক থেকে দেখার ক্ষেত্রেই কাজ করে থাকে। তবে ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে আয়াদের। তার মতে, অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ভবিষ্যতে মানুষের পছন্দ, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রবণতার ওপর এর ব্যবহার নির্ভর করতে পারে। এটি মজার বা বিনোদনমূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে, আবার দেখতে খারাপ নির্মাণস্থল বা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এমনভাবে দেখানোর জন্যও ব্যবহার করা হতে পারে, যেন সেগুলো সেখানে নেই।





