কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাত দেড়টা। ঘুমানোর কথা। কিন্তু মোবাইলের রিলস স্ক্রল করতে করতে সামনে এলো এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি। মিনিটখানেক স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর সিদ্ধান্ত— এখনই খেতে হবে এটা। কিন্তু রেস্টুরেন্ট বা অ্যাপে অর্ডার করলে তো ঘণ্টাখানেক! এদিকে আবার তর সইছে না। অগত্যা স্ক্রিনের ‘থ্রিডি প্রিন্ট’ বাটনে ক্লিক করতেই পাশ থেকে শব্দ এলো প্রিন্টারের। গরম গরম কাচ্চি এসে হাজির প্লেটের ওপর। হুবহু স্ক্রিনে দেখতে পাওয়া ভিডিওর মতোই। অনেকটা সায়েন্স ফিকশন বা কাল্পনিক মনে হলেও ২০৫০ সালে নাকি এভাবেই রান্না হবে দিন বা রাতের খাবার। জার্মানির মিল কিট কোম্পানি হ্যালোফ্রেশের ২০২৫ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। ভবিষ্যতের খাদ্যের বিষয়ে জানতে এ গবেষণায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ ড. মোরগেইন গেয় এবং অক্সোফর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. জোসেফ পুরও।
হ্যালোফ্রেশের নতুন ক্যাম্পেইন ‘ডিনার অব দ্য ফিউচার’-এর জন্যই মূলত এ গবেষণা করে প্রতিষ্ঠানটি। কৃষি প্রযুক্তি, গ্রাহকের চাহিদা এবং খাদ্য খাতে নতুন উদ্ভাবনে কী পরিবর্তন আসতে পারে, সেটি মাথায় রেখে পরিচালনা করা হয় গবেষণাটি। সে সময় মানুষ কোন শস্য উৎপাদন করবে, কী রান্না করবে এবং খাবে— তাই জানার লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎবিদ এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের। তাদের বিশ্বাস, ২৪ বছর পর রান্নাঘরের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র রাইসকুকার বা ইলেকট্রিক চুলা নয়; থ্রিডি প্রিন্টার। যেটিতে করে শুধু টাটকা উপাদান দিয়ে খাবার তৈরি করা যাবে তাই-ই নয়; সঙ্গে বেঁচে যাওয়া উপকরণগুলো সম্পূর্ণ নতুন এবং পুষ্টিকর খাবারেও রূপান্তর করা যাবে। খাবারের থ্রিডি প্রিন্টারে যুক্ত থাকবে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োম্যাট্রিক পদ্ধতি। যেটি দিয়ে একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য তথ্য অনুযায়ী তাকে খাবার তৈরি করে দেবে প্রিন্টার। ভবিষ্যতের সে পৃথিবীর ফল এবং শাকসবজি উৎপাদনের একটি মজার পূর্বাভাসও দিয়েছেন ভবিষ্যৎবিদ ড. গেয়। তার মতে, ২০৫০ সালে মানুষের পরনে থাকা কাপড়েই থাকবে বাগান। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে, এমনসব পোশাকের কথা কল্পনা করা হয়েছে, যাতে থাকবে জালিযুক্ত পকেট এবং সেগুলোতে মাইক্রোগ্রিন, ভেষজউদ্ভিদ কিংবা ভোজ্য ফুলও ফলানো যাবে। তাজা, কীটনাশকযুক্ত খাবার যাতে সবাই খেতে পারে, সেজন্য এমনটি হবে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘আপনার জ্যাকেটটিকে একটি বাগানে পরিণত করার মাধ্যমে আপনি ‘ফুড মাইলস’ (খাদ্য পরিবহনের দূরত্ব) শূন্যে নামিয়ে আনেন।’




