চালু হচ্ছে সেই রাইফেল ক্লাব

রাইফেল ক্লাব নিয়ে দৈনিক আগামীর সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন
অবশেষে চালু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শুটিং ও ক্রীড়া ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব। এর আগে গত ৬ জুলাই দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় ‘ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াঙ্গন এখন অসহায় ক্রীড়নক’ শিরোনামে প্রকাশ হয় একটি প্রতিবেদন। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সংস্কার করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজে সড়ক ও জনপথকে (সওজ) দেওয়ার পর ৬৬ শতাংশের মধ্যে অবশিষ্ট জায়গা ক্লাবের কাজে ব্যবহৃত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট দুই দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বন্ধ ছিল ক্লাবটির কার্যক্রম। চলতি মাসে অনুমতি মেলার পর ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করেছে শ্রমিকরা।
পদাধিকার বলে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘অনুমোদন রাখতে হলে শুটিং ফেডারেশন থেকে ক্লাবটি চালু করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সওজের রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রেখে বাকি অংশে ক্লাবের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু এবং প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং খেলা চালিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে আপাতত ছোট পরিসরে সংস্কার করে ক্লাব চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হলে অন্য কোথাও ক্লাবের জন্য নতুন ভবন করে বড় পরিসরে কার্যক্রম শুরু হবে।’
রাইফেল ক্লাবের শুটিং কোচ কাম ম্যানেজার মো. শফিকুজ্জামান আগামীর সময়কে বলেন, ‘শুটিং ফেডারেশন জানিয়েছে রাইফেল ক্লাব চালু না থাকলে ক্লাবের অনুমোদন থাকবে না। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানোর পর তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। ক্লাবটি আসলে স্পোর্টস ক্লাব। এই ক্লাবে সাড়ে ৭০০ সদস্য রয়েছে। এটি চালু হলে বাচ্চাদের ও প্রশিক্ষণার্থীরা সুফল পাবে।’
নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাবেক শুটার ও সিনিয়র সদস্য এম এ সাত্তার ভুট্টু বললেন, ‘আমরা আগের চেয়ে অনেক গোছানোভাবে কার্যক্রম চালাব। একসময় এখানে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী ঢোকার সাহসই পায়নি। শামীম ওসমানরা একসময় ক্লাবটি ব্যবহার করতে করতে সন্ত্রাসীদের আখড়া বানিয়ে ফেলেছিল। অনেকেই ক্লাবে আসতে পারত না। এখন আর তেমন হবে না। ক্লাবের মূল সদস্যরা সংস্কারকাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।’




