পিরিয়ডকে ক্যান্সার ভেবেছিলেন ধুরন্ধর সিনেমার গায়িকা

পাঞ্জাবি গায়িকা জ্যাসমিন স্যান্ডলাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম ঋতুস্রাবের অভিজ্ঞতা ছিল চরম ভয়ের। শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং আর বাঁচবেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই স্মৃতি এভাবেই তুলে পাঞ্জাবি গায়িকা জ্যাসমিন স্যান্ডলাস।
সম্প্রতি একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে জ্যাসমিন জানান, ছোটবেলায় পরিবারে ঋতুস্রাব নিয়ে কখনো কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর আগে এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। তার ভাষ্য, এ কারণেই প্রথম ঋতুস্রাবের অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল ভয়াবহ।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে জ্যাসমিন বলেন, ‘তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে থাকতাম। হঠাৎ একদিন যখন আমার শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হলো, আমি ভয়ে পুরো জমে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আমার বোধহয় ক্যানসার হয়েছে এবং আমি আর বেশিদিন বাঁচব না, মারা যাব। আমি এতটাই আতঙ্কিত আর অপ্রস্তুত ছিলাম যে, নিজের জন্মদাত্রী মাকেও এই কথা কীভাবে জানাব, তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’
তিনি জানান, পরে স্কুলে এ বিষয়ে কিছুটা জানলেও প্রথম অভিজ্ঞতার মানসিক আঘাত আজও ভুলতে পারেননি।
ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজে বিদ্যমান সংকোচের সমালোচনা করে জ্যাসমিন মন্তব্য করেন, ‘ঋতুস্রাব আসলে একটি মেয়ের জীবনের অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন একটি ছোট মেয়েকে তার নিজের শরীরের এই বদল সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয় না, তখন অবধারিতভাবে সেটি তার জীবনের সবচেয়ে ভীতিজনক ও মানসিকভাবে আঘাতের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।’
বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কন্যাসন্তানের বয়স ১০ থেকে ১১ বছর হওয়ার পর, অর্থাৎ প্রথম ঋতুস্রাব শুরুর আগেই সহজ ও স্বাভাবিকভাবে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। তার মতে, সচেতনতা ও খোলামেলা আলোচনা অনেক অপ্রয়োজনীয় ভয় ও বিভ্রান্তি দূর করতে পারে।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রের একটি গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন জ্যাসমিন স্যান্ডলাস। এর আগে দিল্লিতে এক সরাসরি সংগীতানুষ্ঠানে নিজের হবু স্বামী শেখর চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।




