নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে সরকার

নির্বাচন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী সরকার। এজন্য প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা। এরপর প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সব মন্ত্রণালয় এবং সরকারি দপ্তর একযোগে শুরু করে কার্যক্রম। এরই মধ্যে মোটা দাগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন-পুনঃখননের মতো কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পূর্ণ হয়েছে সরকারের পাঁচ মাস। এখন বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে সরকার। ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর এক্ষেত্রে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র বলেছে, ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেবে সরকার। এর মধ্য দিয়ে হবে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্সেরও মূল্যায়ন। যার ভিত্তিতে আসতে পারে মন্ত্রিসভায় রদবদলও। মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন তথা পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যেমন বাদ পড়তে পারেন, তেমনি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারে নতুন মুখও। তাই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এখন প্রতিশ্রুত ইশতেহারের অধীন মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। আর ইশতেহার বাস্তবায়নের এই পুরো প্রক্রিয়া মনিটরিং করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত কঠোর, নিয়েছেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বললেন, ‘নির্বাচিত সরকারের পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান প্রধান বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় কর হ্রাস করার মাধ্যমে কমানো হয়েছে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টির বেশি খাদ্যপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নৈমিত্তিক যে বিষয়গুলো রয়েছে, সবকিছু প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে শিক্ষা কারিকুলামও। দীর্ঘদিন ধরে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, সেগুলো মোকাবিলায় বাণিজ্যনির্ভর এবং শিল্পকারখানাবান্ধব নীতিমালা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলছিলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দেওয়া হয়েছিল— তার বহুলাংশে সফল। এরই মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার লক্ষ্য পূরণে বহুমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে; যেখানে যে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন— প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় তা গৃহীত হচ্ছে।’
“বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর তাই বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। নিশ্চিত করছেন দেশের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা এবং গড়ে তুলছেন একটি মানবিক, নিরাপদ ও সাম্য-ন্যায়পরায়ণতার বাংলাদেশ”— যোগ করলেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে হবে এ সংবাদ সম্মেলন। যেখানে এ সময় সরকারের নানা অর্জন এবং জনকল্যাণে গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এদিকে ১১ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মকাণ্ড। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অভিমত দেন, এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে— প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সঠিক পথেই এগোচ্ছে সরকার। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নেও সরকার গুরুত্ব দেবে বলে তাদের আশা।
এর আগে সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ২৫ মে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। সেখানে দাবি করা হয়, বিগত সময়ে লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা ১০০ দিনের মধ্যে আবার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে এই সরকার। এ ছাড়া ১০০ দিনে অনেক মানুষের সমস্যার সমাধানও হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে এ সময় মন্ত্রিসভার নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ৬২ শতাংশই। সরকারের অভূতপূর্ব এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে এরই মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে।




