মনে হয়

কালকের কথা ‘দুর কি বাত’! আজ কী হবে, তাই কি নিশ্চিত করে বলতে পারি কেউ? জ্যোতিষ বা ভবিষ্যৎ বক্তারা কিছুটা পারেন। অনেকাংশে খেটেও যায় সে অনুমান। সাড়া পড়ে যায় সারা দুনিয়ায়। তোলপাড় শুরু হয় মানুষের ভাবনার চরে। এমনই এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত কানাডার বিশ্বখ্যাত ভবিষ্যৎ বক্তা নিকোলাস ব্যাডমিন্টন। আমরা মানুষ নাকি ১৫০ বছর বাঁচব! হয়তো ২০০ বছরও বাঁচতে পারে কেউ কেউ। তবে তা এখনই নয়। অচিরেই যে ঘটবে, তাও নয়। আজ থেকে ২০০ বছর পরের পৃথিবীর এ দৃশ্য ২০১৮ সালেই তুলে ধরেছিলেন তিনি।
‘দিস ইজ হোয়াট লাইফ কুড লুক লাইক টু হানড্রেড ইয়ারস ফ্রম নাউ’ নিবন্ধে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই এ মন্তব্য করেছেন নিকোলাস।
আত্মবিশ্বাসও ছিল টনটনে। অর্থাৎ, এখনকার মতো অল্প বয়সেও হয়তো আর মরবে না কেউ। কিন্তু কেন? কি-ই বা কারণ এর পেছনে? অলৌকিক, নাকি নিছক কল্পনা? না– এসবের কোনোটিই নয়। নিকোলাসের ব্যাখ্যাটি আগাগোড়া বৈজ্ঞানিক। আপাদমস্তক যুক্তিনির্ভর। মূলত ভবিষ্যৎ পৃথিবীর অতি-আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে মানবজাতির আশু দীর্ঘায়ু নিয়ে এ দূরদর্শী মন্তব্য করেছেন নিকোলাস।
তার মতে, আসছে পৃথিবীতে রোগ-শোক-জ্বরা থাকবে না বললেই চলে। তুড়িতে উড়ে যাবে ক্যানসারের মতো জটিল রোগও। অনিরাময়যোগ্য বা দুরারোগ্য মরণব্যাধি বলে থাকবে না কিছুই। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বায়োটেকনোলজি এমন মাত্রায় পৌঁছাবে— বেছে বেছে সন্তান নেওয়া শুরু করবে মানুষ। অর্থাৎ, নিজের পছন্দের সব বৈশিষ্ট্যই থাকবে নবাগত সন্তানের জিনে। জিন সংস্করণ যাকে বলে।
আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন ব্রিটিশ ভবিষ্যৎ বক্তা ড. ইয়ান পিয়ার্সন। নিকোলাসের মতো ২০০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি তিনি। সামনে-পেছনে না তাকিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০৫০ সালের মধ্যেই অমর হবেন মানুষ। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রকাশিত ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানের এক প্রতিবেদনে এর বিশদ ব্যাখ্যা দেন পিয়ার্সন। সেখানে তার বক্তব্য— পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা অমর হতে চান। মানুষের সেই স্বপ্নকে সত্যি করবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বয়স বৃদ্ধি থেকে রোধ করা হবে কোষকে। চাইলেই নাকি পাল্টে ফেলা যাবে শরীরের অঙ্গও। থ্রিডি প্রিন্টিং দিয়ে পুরনো অঙ্গ ফেলে নতুন অঙ্গ লাগানো যাবে মানবদেহে।






