Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
মান্তা শিশুদের শিক্ষায় শামীমের উদ্যোগ
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাহিত্য

স্মরণে নবারুণ ভট্টাচার্য

ডানাওয়ালা কবিতার কবি

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৬
ডানাওয়ালা কবিতার কবি

নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩ জুন ১৯৪৮ –৩১ জুলাই ২০১৪)

বিস্ফোরণের অক্ষর-কারিগর

বাংলা সাহিত্যের মানচিত্রে নবারুণ ভট্টাচার্য এক দুর্লভ বিক্ষেপ। কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, সম্পাদক— এইসব তকমার বাইরে তিনি প্রধানত এক আপসহীন বুদ্ধিজীবী, যিনি কলমকে অস্ত্র করে আজীবন রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও ভদ্রলোকি সাহিত্যের চেতনায় আঘাত করে গেছেন। ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন বহরমপুরে তাঁর জন্ম; পিতা নাট্যকার-অভিনেতা বিজন ভট্টাচার্য, মা প্রখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী। সাংস্কৃতিক রক্তের উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে নবারুণ ক্রমশ হয়ে উঠেছিলেন কথাসাহিত্য ও কবিতার এক অনন্য উচ্চারণ। যেখানে রাজনীতি, মানুষের মৌলিক অধিকার আর নন্দন মিলেমিশে একাকার। ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন। তবে দৈহিক মৃত্যু ঘটলেও তার চিন্তার বিস্মৃত ডানা এখনো অধিকার করে আছে বাংলা সাহিত্যের আকাশ। তাঁর সৃষ্টির ঢেউ লাগে আজও হৃদয়ে হদয়ে। আর প্রতিমুহূর্তে আপাতশান্ত মনে হওয়া দেশ রাষ্ট্রের পুকুরের জলে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরণের সম্ভাবনা তৈরি করে।

‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’— এক আপসহীন ইশতেহার

নবারুণের কাব্যজীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত পঙ্ক্তিগুচ্ছ নিঃসন্দেহে ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’। ১৯৮২ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এই কবিতাটি নিছক শোক বা প্রতিবাদ নয়, এ এক ঘোষণাপত্র। ‘যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায় / আমি তাকে ঘৃণা করি’ থেকে শুরু করে ‘এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না/এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না’ পর্যন্ত উচ্চারিত প্রতিটি লাইন আপসহীনতার দলিল। নবারুণ এখানে রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন কসাইখানা, শ্মশান, জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ হিসেবে। তিনি দেখিয়েছেন, কবিতা কোনো ড্রয়িংরুমের বিলাসিতা নয়; কবিতা সশস্ত্র, নির্ভীক—‘কবিতা কোন বাধাকে স্বীকার করে না / কবিতা সশস্ত্র কবিতা স্বাধীন কবিতা নির্ভীক।’ ইনটারোগেশন সেল, বিদ্যুৎ শক, গুলি— সবই তিনি ‘মানি না’ বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এই ‘মানি না’র মধ্যে লুকিয়ে আছে নবারুণের পুরো জীবনের দর্শন: যে রাষ্ট্র হত্যা করে, তার মুখোশ খোলা চাই, সেই রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেওয়া চাই, বিপ্লবের উৎসবে গড়া চাই এক নতুন দেশ।

কবিতায় তিনি যেমন মায়াকোভস্কি, নাজিম হিকমত, পাবলো নেরুদা, লুই আরাগঁ, পল এলুয়ারকে স্মরণ করেছেন, তেমনি আত্মপ্রত্যয়ে বলেছেন: ‘তোমাদের কবিতাকে আমরা হেরে যেতে দিইনি / বরং সারাটা দেশ জুড়ে নতুন একটা মহাকাব্য লেখবার চেষ্টা চলছে / গেরিলা ছন্দে রচিত হতে চলেছে সকল অলংকার।’ এখানেই নবারুণের কবিতা আর পঞ্চাশ-ষাটের মূলধারার আধুনিক বাংলা কবিতার ফারাক। তিনি কবিতাকে রাস্তায় নামিয়েছেন, স্টেনসিলে, ইস্তেহারে, লক-আপের পাথর-হিম কক্ষে ধ্বনিত করেছেন। এই আপসহীনতাই তাঁকে বাংলা কবিতার নন্দন-চত্বরে কিছুটা ‘অচেনা’ করে রেখেছিল প্রথম কুড়ি বছর। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা...’ ততই প্রবাদপ্রতীম হয়ে উঠেছে, নবারুণ হয়ে উঠেছেন আর্ট কালচার অঙ্গনের কাল্ট, অবশ্য আবশ্যক।

হারবার্ট ও বিস্ফোরণের সম্ভাবনা

নবারুণের সাহিত্যে আপসহীনতার যে বীজ কবিতায় রোপিত হয়েছিল, তারই চরম বিস্তার ঘটে ১৯৯২ সালে কলকাতার প্রমা পত্রিকার শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘হারবার্ট’-এর মাধ্যমে। এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯২ সালে সোভিয়েত সমাজ ব্যবস্থার পতন সারা বিশ্বে এক বড় ধাক্কা; একই সময়ে ভারতে নয়া উদার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সাম্রাজ্যবাদের জোয়ার আসে। নবারুণ নিজে এক গল্প সংকলনের ভূমিকায় লিখেছিলেন, ‘যে শতক সবচেয়ে আশা জাগিয়েছিল সেই শতক শেষ হচ্ছে অবসাদে বিষাদে যন্ত্রণাজর্জর অবস্থায়।... চূড়ান্ত নিরিখে এই বাস্তবকে আমি চিরস্থায়ী বলে মানি না। বাস্তবকে পাল্টাতে হবে। হবেই।’

উপন্যাসের শুরুটাই ১৯৯২ সালের ২৫ মে— যে তারিখ আড়াই দশক আগের নকশালবাড়ি কৃষক সংগ্রামে গুলি চলার দিনটিকে মনে করায়। কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র হারবার্ট, যে পরিবারে ও সমাজে একেবারেই ব্রাত্য। তার ভাইপো বিনু কলেজে পড়তে পড়তে জড়িয়ে পড়ে সমাজ বদলের লড়াইয়ে, নকশালবাড়ির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে। বিনু হারবার্টকে শোনায় মাও সে তুঙ-এর আহ্বান, দেখায় ‘পুলিশের লাঠি ঝাঁটার কাঠি, ভয় করে না কমিউনিস্ট পার্টি’র ছড়া। হারবার্টও জড়িয়ে পড়ে বিপ্লবী তৎপরতায়: চিলছাদে পুড়িয়েছে গোপন দলিল, পাচার করেছে টাকা ও বই। উপন্যাসে বারাসাত হত্যাকাণ্ড ও কাশীপুর-বরানগর হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস সরাসরি ঢুকে পড়ে, এমনকি চারু মজুমদারের ইস্তাহারের অংশও ব্যবহৃত হয়।

বিনু পুলিশের গুলিতে মারা যায়। তার ব্যবহৃত না-হওয়া ডিনামাইট স্টিক লুকানো থাকে হারবার্টের বিছানায়। এরপর সময় বদলায়— নব্য উদার অর্থনীতির জমানায় হারবার্ট আধা চেতনে ‘মৃতের সহিত কথোপকথন’ দেখানোর ব্যবসা শুরু করে, ফূর্তির আসর চলে। কিন্তু শেষপর্যন্ত, হারবার্টের দাহকার্যের সময় সেই লুকানো ডিনামাইট স্টিক বিস্ফোরিত হয়, ঠিক যখন স্টার টিভির ডিস অ্যান্টেনা পাড়ার ছাদে ছাদে বসছে। এই বিস্ফোরণ যেন ব্যর্থ বিপ্লবের সুপ্ত আগুনেরই প্রতিধ্বনি; নবারুণ দেখিয়ে দেন, রাষ্ট্র ও পুঁজির আগ্রাসী চাপের নীচেও বিদ্রোহের সম্ভাবনা নিভে যায় না, বরং যে কোনো মুহূর্তে ফেটে পড়তে পারে।

প্রতিষ্ঠানের প্রসাদ বিষ্ঠা: কবির ঔদ্ধত্য

নবারুণের কবিতায় বারবার ফুটে উঠেছে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান বিরোধী একটি চরম অবস্থান। ‘কবির ঔদ্ধত্য’ কবিতায় তিনি লিখেছেন: ‘প্রতিষ্ঠানের প্রসাদ বিষ্ঠা হেলায় ঠেলে ফেলে /কবি থাকেন কাঠের চিতায় এমন আঁকি পট।’ এ শুধু আস্ফালন নয়, জীবনের অভিজ্ঞতা। সাহিত্য অকাদেমি ও বঙ্কিম পুরস্কার পেলেও তিনি কখনও ওই পুরস্কার-কেন্দ্রিক আত্মতুষ্টির দাসত্ব করেননি। ‘ডানাওয়ালা কবিতা’য় সেই কবির ছবি আঁকলেন, যে বাতাসে টাকা উড়লে ভাবে প্রজাপতি, যুদ্ধবিমানকে ভাবে পাখির ঝাঁক, বুলেটকে লিপস্টিক, বোমার ধোঁয়াকে মেঘ। ওয়েস্টপেপার বাস্কেটরাও তার কবিতা নিতে চায় না। এ এক ধিক্কার শুধু ব্যক্তি কবিকে নয়, বাঙালি সাহিত্যের গোটা নিরীহ নান্দনিক অবস্থানকে। নবারুণ দেখিয়ে দিলেন, আপসহীন বুদ্ধিজীবী হতে গেলে কখনও কখনও নিজের চেনা জগতের কবিতাকেও জংলি আক্রমণ করতে হয়।

নবারুণ ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত
বিকল্প ভাষা ও চরিত্রের সৃষ্টি: পুরন্দর ভাট ও ফ্যাতাড়ু

নবারুণ শুধু নেতিবাচক সমালোচনায় থামেননি; তিনি গড়ে তুলেছেন বিকল্প জগৎ, বিকল্প ভাষা, বিকল্প চরিত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো পুরন্দর ভাট। পুরন্দর ভাট একজন খাস কলকাত্তাইয়া নিম্নবর্গের কবি— যার কথার ছিরি এমন যে কানে হাত চাপা না দিলে অক্ষয় নরকবাস। এই চরিত্রের মাধ্যমে নবারুণ সাহিত্যের বাবুগিরিতে সেঁধিয়ে দিলেন ‘গোমাংস’, ‘বিষ্ঠা’ ইত্যাদি অশ্লীল শব্দাবলি। কিন্তু পুরন্দর ভাটের ভিতর লুকিয়ে আছে গভীর রাজনৈতিক ক্রিটিক। তার কবিতায় যেমন “আজ্ঞাবহ দাস, ওরে আজ্ঞাবহ দাস / সারা জীবন বাঁধলি আঁটি, ছিঁড়লি বালের ঘাস...’ — এ এক নিম্নবর্গের প্রতিবাদী ভাষা যা ভদ্রলোকি সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। পুরন্দর ভাট যেন নবারুণের দ্বিতীয় সত্তা, যে বলে দিতে পারে সমস্ত কিছু, যা সরাসরি বলে ওঠা কঠিন শুধু নয় অসম্ভব, সমাজের সামনে একটা ভদ্রতার মুখোশ আছে তো!

একই প্রক্রিয়ায় জন্ম নিয়েছে ফ্যাতাড়ুরা। ‘কাঙাল মালসাট’, ‘মসোলিয়ম’ ইত্যাদিতে নবারুণ আনলেন উড়তে পারা এক নিম্নবর্গের দল, যারা “ফ্যাত ফ্যাত শাঁই শাঁই” মন্ত্র বলে উড়াল দেয় এবং রাষ্ট্রের সুখী সংসারে বাগড়া দেয়। ফ্যাতাড়ুরা নবারুণের সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক অস্ত্র। এরা বেকার, ভবঘুরে, সর্বহারা— যাদের আর কিছুই হারাবার নেই, তাই তারা উড়তে শেখে। ‘কাঙাল মালসাট’-এ তারা চাকতিদের সঙ্গে মিলে লালবাজারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফ্যাতাড়ুদের বিদ্রোহ আসলে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে নিম্নবর্গের অভ্যুত্থানের এক ম্যাজিক রিয়ালিস্ট নকশা। নবারুণ জানতেন, এ এক ফ্যান্টাসি। কিন্তু এই ফ্যান্টাসির মধ্য দিয়েই তিনি পুঁজিবাদী উন্নয়নের ফ্যান্টাসির বিরুদ্ধে প্রতি-আখ্যান দাঁড় করান, যেখানে হকার-ভ্যানচালক-বেকার যুবকরাই সেনাবাহিনীর পুরোভাগে। ‘হারবার্ট’-এর শেষে যে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটে, আর ‘কাঙাল মালসাট’-এর শেষে যে রাষ্ট্র পিছু হটতে বাধ্য হয়, দুটোই দেখিয়ে দেয় নবারুণের লেখায় ‘বিদ্রোহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা’ চিরন্তন।

জীবনসায়াহ্নে নবারুণ ভট্টাচার্য, সবসময় ছিলেন আড্ডামাতানো, প্রাণোচ্ছল এক মানুষ। আগামীর সময় গ্রাফিকস

নবারুণের সমগ্র সাহিত্যজীবনে একটা প্রবণতা প্রকট: যা অস্বীকার করছেন, তারই জায়গায় বিকল্প রেখে যাওয়া। ‘এই মৃত্যু উপত্যকা’ অস্বীকার করে তিনি যে দেশ চাইছেন, সেখানে ‘বুকের মধ্যে টেনে নেব কুয়াশায় ভেজা কাশ বিকেল ও ভাসান’। নব্য উদার অর্থনীতির ‘শিল্পে নতুন জোয়ার’-এর তত্ত্ব যখন চলছে, নবারুণ ‘কাঙাল মালসাট’-এ দেখিয়েছেন বন্ধ কারখানা, হকার উচ্ছেদ। আবার নকশালবাড়ির ‘আনপ্রিপেয়ার্ড স্ট্রাগল’ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ফ্যাতাড়ুদের হাতে তুলে দিয়েছেন সুপরিকল্পিত গেরিলা কৌশল। এমনকি নিজের নামও ভেঙেছেন পুরন্দর ভাট কিংবা ফ্যাতাড়ুর ছদ্মনামে। ‘ভাষাবন্ধন’ পত্রিকা সম্পাদনা, ‘নবান্ন’ নাট্যগোষ্ঠী পরিচালনা— সবেতেই নবারুণ শিল্প ও রাজনীতির এক অভিনব মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছেন।

কবির চেয়ে অধিক আপসহীন বুদ্ধিজীবী

নবারুণ শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন আগাগোড়া অ্যাকটিভিস্ট বুদ্ধিজীবী। সি পি আই এম এল লিবারেশনের গণসংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক পদে থেকে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক সক্রিয়তার সঙ্গে লেখালেখিকে মিলিয়েছিলেন। তাঁর কথায়-লেখায় ‘ক্লাস লাইন’ কখনও টলে যায়নি। বুদ্ধিজীবীদের ‘বাখতিন-ফুকো আওড়ানো’, ঘোষণাপত্রে সই করে দায় সারার সংস্কৃতির তিনি ছিলেন কঠোর সমালোচক। পুরন্দর ভাটের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, ‘শুধু এই ধরনের আবেদনে বা প্রতিবাদপত্রে সই করেই অনেকে লেখক বলে নিজেদের পরিচিত করতে পেরেছেন।’ নবারুণের কাছে লেখা মানে প্রত্যক্ষ অ্যাকশন— কোলাজ পদ্ধতিতে, রক্ত-অশ্রু-হাড় দিয়ে লেখা কবিতা। তিনি দেখিয়েছেন, সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী কখনও নিরপেক্ষ থাকতে পারে না; তাকে পক্ষ নিতেই হবে, এবং সেই পক্ষ নেওয়াটা; নিতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে। ‘হারবার্ট’, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’, ‘কাঙাল মালসাট’— সর্বত্রই তিনি মৃত্যু ও ধ্বংসকে ভালোবাসার সমার্থক করে তুলেছেন। ‘মৃত্যু ভালোবাসা ছাড়া কিছু নয়’— এই বোধ থেকেই তিনি ঘোষণা করেছেন: ‘আমাকে হত্যা করলে / বাংলার সব কটি মাটির প্রদীপে শিখা হয়ে ছড়িয়ে যাব / আমার বিনাশ নেই।’

হারবার্ট-এর প্রচ্ছদ

সিনেমার পর্দায় নবারুণের জগৎ

নবারুণের সাহিত্যের দৃশ্যগ্রাহ্যতা ও রাজনৈতিক তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই চলচ্চিত্র-নির্মাতাদের আকৃষ্ট করেছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘হারবার্ট’ অবলম্বনে ২০০৫ সালে বিশিষ্ট নাট্য ও চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব সুমন মুখোপাধ্যায় ‘হারবার্ট’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। এই সিনেমায় হারবার্টের নিঃসঙ্গতা, আত্মবিধ্বংসী প্রবণতা, এবং নব্য উদারতাবাদের পটভূমিতে ব্যর্থ বিপ্লবের দগদগে ক্ষতগুলো চিত্রিত হয়েছে। ছবিটি শুধু নবারুণের মূল উপন্যাসের মর্মার্থই নয়, বরং তাঁর পুরো সাহিত্যিক জগতের সুরটিকেও সেলুলয়েডে ধরে রাখতে পেরেছিল বলে অনেকে মনে করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সুমন মুখোপাধ্যায়ই নবারুণের আরেক আইকনিক উপন্যাস ‘কাঙাল মালসাট’-এর চলচ্চিত্রায়ণ করেন। ছবিটি ফ্যাতাড়ু ও চাকতিদের যৌথ ফ্রন্ট, লালবাজারের বিরুদ্ধে তাদের গেরিলা যুদ্ধ, এবং পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের মুখোশ খোলার এক উন্মাদ ম্যাজিক-রিয়ালিস্ট আখ্যান দর্শকদের সামনে হাজির করে। এই দুই সিনেমা নবারুণের চরিত্রদের— হারবার্ট, বিনু, পুরন্দর ভাট, মদন, ডি এস, মার্শাল ভদি— পর্দায় জীবন্ত করে তোলে এবং তাঁর সাহিত্যের মূল বিদ্রোহী চেতনাকে অনেক বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়। সিনেমার মাধ্যমেও নবারুণ প্রমাণ করলেন, তাঁর লেখা শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি থাকার জন্য নয়; তা রূপান্তরিত হতে পারে দৃশ্য-শব্দের বিস্ফোরণে, যা পর্দা পেরিয়ে সমাজের স্থিতাবস্থাকে জানাতে পারে সরব চ্যালেঞ্জ।

নবারুণ ভট্টাচার্যের হারবার্টের অনুপ্রেরণায় সুমন মুখোপাধ্যায় পরিচালিত সিনেমা হারবার্টের পোস্টার

উত্তরাধিকার

নবারুণের প্রয়াণের পরেও তাঁর চরিত্ররা বাংলা সংস্কৃতিতে অমর। চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ড ‘ফ্যাত ফ্যাত শাঁই শাঁই’ গেয়ে ফ্যাতাড়ুদের পপ সংস্কৃতির অংশ করে নেয়। ২০১৯-এ প্রকাশিত ‘Nabarun Bhattacharya: Aesthetics and Politics in a World after Ethics’ প্রমাণ করে তাঁর ভাবনা এখন আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক পরিমণ্ডলেও সমাদৃত। নবারুণের আসল ‘ডানা’ হলো এই বিশ্বাস যে সাহিত্যের কাজই হলো উড়তে শেখা— তা সে ফ্যাতাড়ুর মতো বাস্তবের মাটি ছেড়ে হোক, আর পুরন্দর ভাটের মতো ভাষার শৃঙ্খল ভেঙে হোক। তিনি ‘ডানাওয়ালা কবিতার কবি’ হিসেবে সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই লিখে গেছেন শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর কবিতার শেষ উচ্চারণ যেন আজও প্রতিধ্বনিত: ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না।’ আপসহীন, সংগ্রামী, বিকল্প নির্মাণে অক্লান্ত এবং বিস্ফোরণের সম্ভাবনায় চিরউন্মুখ এক বুদ্ধিজীবী— নবারুণ ভট্টাচার্য প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শেখাবেন কীভাবে কবিতার ডানায় চড়ে রাষ্ট্রের কারাগার, পুলিশি নির্যাতন আর ভদ্রলোকি সাহিত্যের শিকল ভাঙতে হয়। প্রয়াণস্মরণে এই কবিকে লাল সালাম জানাই।

নবারুণ ভট্টাচার্য
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এস আলম, ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

    ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এস আলম, ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩১

    এমন ফিটনেস ক্যাম্প নিয়মিত চান মেয়েরা

    এমন ফিটনেস ক্যাম্প নিয়মিত চান মেয়েরা

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৮

    শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক

    শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৫

    গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন শূন্যতা, জনসেবায় চরম ভোগান্তি

    গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন শূন্যতা, জনসেবায় চরম ভোগান্তি

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৮

    বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ

    বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৭

    সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত

    সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২২

    শ্রীলঙ্কায় সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    শ্রীলঙ্কায় সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩

    প্রিভিউ আয় ৬ কোটি ডলার

    প্রিভিউ আয় ৬ কোটি ডলার

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৮

    পডকাস্টে ফেরদৌসী মজুমদার

    পডকাস্টে ফেরদৌসী মজুমদার

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫

    এক নম্বরে ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

    এক নম্বরে ‘আদর্শ বাল বিদ্যালয়’

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৯

    ‘আন্ধার’ মুহূর্ত ফাঁস!

    ‘আন্ধার’ মুহূর্ত ফাঁস!

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩

    নিজেকে চিনেছেন শ্রুতি

    নিজেকে চিনেছেন শ্রুতি

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬

    সেই বাসরও নেই, বাঁশরী নেই

    সেই বাসরও নেই, বাঁশরী নেই

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬

    মান্তা শিশুদের শিক্ষায় শামীমের উদ্যোগ

    মান্তা শিশুদের শিক্ষায় শামীমের উদ্যোগ

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১২

    মতিঝিলে সংবাদপত্র হকার্স সমিতির কার্যালয়ে গুলি

    মতিঝিলে সংবাদপত্র হকার্স সমিতির কার্যালয়ে গুলি

    ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১

    advertiseadvertise