সাহিত্যের খবরাখবর
সাহিত্যের অনুবাদে নেই টাকা, প্রশংসাও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পেন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন প্রকাশনাশিল্পে সাহিত্যের অনুবাদকরা এখনো চরম অবহেলিত ও কম বেতনের শিকার হচ্ছেন। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে অনুবাদকদের ‘জুনিয়র গৃহপরিচারিকার’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। নতুন প্রতিবেদন বলছে, ৫৭ বছর পরও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থান নতুন হুমকি তৈরি করেছে। প্রথমত, পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। ২০২২ সালের এক জরিপে দেখা যায়, সাহিত্য অনুবাদের গড় রেট শব্দপ্রতি ১৩ সেন্ট; অনেকে পান ১০ সেন্ট বা তারও কম। অনুবাদকরা ফ্রিল্যান্সার বলে দরকষাকষির ক্ষমতা নেই। ফলে এক প্রকাশনী ১% রয়্যালটির বিনিময়ে ১২ থেকে ১৬ সেন্ট দিলেও তা ব্যতিক্রমী বলেই গণ্য হয়। দ্বিতীয়ত, কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রায় অনুপস্থিত— বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বইয়ের প্রচ্ছদেও অনুবাদকের নাম থাকে না। তৃতীয়ত, এআই এখন সরাসরি জীবিকা গ্রাস করছে। ২০২৫ সালের মাইক্রোসফটের এক গবেষণা বলছে, অনুবাদক ও দোভাষীদের ওপর এআইয়ের পেশাগত প্রভাব শতকরা ৯৮ ভাগ। হার্লেকুইনের ফরাসি শাখা এরই মধ্যে মানব অনুবাদক ছেঁটে এআই ও ফ্রিল্যান্স সম্পাদক নিয়োগ করেছে; টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসও এআই দিয়ে বই অনুবাদের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও দেখায়, ছোট স্বাধীন প্রকাশকরাই ৮৬% অনূদিত বই প্রকাশ করে, কিন্তু তাদের সম্পদ সীমিত। ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশের মতো ‘প্রভাবশালী ভাষা’র বাইরের সাহিত্য বাজারে আসাই কঠিন। অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা এতটাই যে ৩৬% অনুবাদক অনুদান ছাড়া পারিশ্রমিকই পান না। আর ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ২৭ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। পেন আমেরিকা ‘এআরটি’ কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে— অথরাইজেশন, রেমিউনারেশন, ট্রান্সপারেন্সি, অর্থাৎ অনুবাদকের অনুমতি, যথাযথ পারিশ্রমিক ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য অনুবাদক স্যান্ড্রা স্মিথের কথায় স্পষ্ট: ‘অনুবাদ কেবল শব্দের নয়; সংস্কৃতির, জ্ঞানের, চিন্তার আদান-প্রদান। এই বিনিময় ছাড়া সংস্কৃতি হয়ে পড়ে নির্জীব।’




