মেমোরিজ অব ইন্ডিগো
‘নীল বিদ্রোহের’ স্মৃতি কতটা মনে আছে

সংগৃহীত ছবি
নীল বিদ্রোহের স্মৃতি সময়ের সঙ্গে ক্রমেই মুছে যাচ্ছে মানুষের মন থেকে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ইতিহাস নতুন তাৎপর্য নিয়ে ফিরে আসছে বলে উঠে এসেছে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদের গবেষণাগ্রন্থ ‘মেমোরিজ অব ইন্ডিগো রেবেলিয়ন’-এ। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউপিএলের কার্যালয়ে বইটি নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক নিয়াজ জামান, অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা ও অধ্যাপক মানস চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক নাজিয়া মনজুর।
বাংলাদেশের ১৪টি জেলায় পরিচালিত মাঠপর্যায়ের গবেষণা, পুরোনো নথিপত্র এবং মানুষের স্মৃতির ভিত্তিতে রচিত হয়েছে বইটি। বইটিতে নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ, লোকমুখে প্রচলিত গল্প এবং নানা সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কীভাবে নীল বিদ্রোহ এখনও বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে।
প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের মতে, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে বইটি গুরুত্বপূর্ণ এক সংযোজন। ইতিহাস কীভাবে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে ভূমিকা রাখে এবং স্মৃতির পেছনে কী ধরনের রাজনীতি কাজ করে, সে বিষয়ে বইটি নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে পাঠক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, তার গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে এখনও নীল বিদ্রোহের স্মৃতি বিদ্যমান রয়েছে।
নীল বিদ্রোহ পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূলত অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনার কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক কারণই ছিল বিদ্রোহের প্রধান চালিকাশক্তি। তবে এর সঙ্গে কিছু পরিকল্পিত উপাদানও যুক্ত ছিল।





