আগামীর সময়

বইমেলায় শেষ ছুটির দিনে বৃষ্টির হানা, ক্ষতির মুখে প্রকাশকরা

বইমেলায় শেষ ছুটির দিনে বৃষ্টির হানা, ক্ষতির মুখে প্রকাশকরা

ছবিঃ আগামীর সময়

সকাল থেকে শিশুদের কলকাকলি আর বিকেলে সব বয়সী পাঠকদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছিল অমর একুশে বইমেলার শেষ শুক্রবার। তবে মেলার শেষ ভাগে এসে বাগড়া দিয়েছে দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি।

এদিন রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলার কথা থাকলেও রাত ৮টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুত স্টলগুলো বন্ধ করে দিতে হয়। এতে মেলার সমাপনী মুহূর্তগুলোতে ছন্দপতন ঘটে। অনেক প্রকাশনীর বই ভিজে নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার ছিল মেলার ১৬তম দিন এবং শেষ ছুটির দিন। এদিন মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। সকাল থেকেই মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। তবে শেষ বেলায় বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রকাশকেরা।

অন্তত ২০টি প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলার শেষ দিকে এসে বই বিক্রি ও জনসমাগম বেড়েছে। তবে এবারের মেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ১৮ দিনের সংক্ষিপ্ত এই মেলায় বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেক প্রকাশক।

অন্যপ্রকাশের স্টল ব্যবস্থাপক সাফায়েত হোসেন বলছিলেন, বিগত সাত বছর ধরে আমি স্টল সামলাচ্ছি। আগে ছুটির দিনে ১৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হতো, এবার সেখানে এক লাখও হয়নি।

‘গতবার মাসব্যাপী মেলা থাকলেও এবার ১৮ দিনের মেলা। লোকসমাগম কিছুটা কম হলেও যারা আসছেন তারা বই কিনছেন’, বইমেলার পরিস্থিতি নিয়ে জানাচ্ছিলেন বাতিঘরের সহকারী ম্যানেজার সঞ্জয় সূত্রধর।

মেলার শেষ শিশুপ্রহরে বড় আকর্ষণ ছিল ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’-এর পুতুলনাট্য ও গল্পপাঠ। এবার শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর না থাকলেও মেলার একটি নির্দিষ্ট অংশে শিশুতোষ প্রকাশনাগুলোর স্টল সাজানো হয়েছে।

কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক ভাষ্য, ‘আমরা চাই বাচ্চারা যেন আনন্দ নিয়ে শেখে। গল্পের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সহমর্মিতা গড়ে উঠবে।’

সকালে মেলা প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীতের তিনটি শাখায় (ক, খ, গ) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বিকেলে মূল মঞ্চে ‘স্মরণ: বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিরোজ আহমেদ এবং আলোচনায় অংশ নেন সুমন রহমান। সাংস্কৃতিক পর্বে জাসাস-এর শিল্পীরা সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

আজ মেলায় নতুন বই জমা পড়েছে ২৭৭টি। আগামীকাল শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। কালও থাকছে শিশুপ্রহর। বিকেলে মূল মঞ্চে ‘জন্মশতবর্ষ: মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রবন্ধ পাঠ করবেন মোরশেদ শফিউল হাসান এবং সভাপতিত্ব করবেন আবুল আহসান চৌধুরী।

    শেয়ার করুন: