আগামীর সময়

প্রকাশক ঐক্য

বইমেলায় ক্ষতি শোচনীয়, বিক্রি ৮০ ভাগ কম

বইমেলায় ক্ষতি শোচনীয়, বিক্রি ৮০ ভাগ কম

ছবিঃ আগামীর সময়

এবারের প্রায় পাঠকশূন্য অমর একুশে বইমেলায় আর্থিক ক্ষতি করোনাকালের মেলার চেয়েও শোচনীয় বলে দাবি করেছে প্রকাশক ঐক্য।

সংগঠনটি বলছে, অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ ভাগ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি। প্রায় ৩০ ভাগ প্রকাশকের ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

তিন শতাধিক প্রকাশকদের এই সংগঠনের দেয়া হিসাবে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৫ সালের বইমেলায় বিক্রি কমেছিল ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ ভাগ। আর এবারের মেলায় বিক্রি কমেছে ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ।

সামগ্রিকভাবে অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছর বই বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ কম বলে দাবি এই সংগঠনের।

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন প্রকাশক ঐক্যের অন্যতম সংগঠক, ইউপিএল-এর মাহরুখ মহিউদ্দিন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের জাকির হোসেন ও আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুবুর রাহমান।

বইমেলা নিয়ে প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘প্রতি বছর বইমেলায় ৩০-৪০ কোটি টাকার বই বিক্রির যে মুখরোচক তথ্য প্রচার করা হয়, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই; প্রকৃত বিক্রি তার চেয়ে অনেক কম। কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখি একটি ১০০ কোটি টাকার বইমেলার...’

‘... ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি বই বিক্রি করার স্বপ্ন কোনো অবান্তর কল্পনা নয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার একটি সুনির্দিষ্ট মার্কেটিং বাজেট থাকলে আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বইমেলার সামগ্রিক আয়োজনে প্রকাশকরা যদি চালকের আসনে থাকেন এবং কর্তৃপক্ষ যথাযথ সহযোগিতা করে, তবে মেলার চেহারাই পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’

বইমেলার এই ‘আর্থিক বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে’ কিছু পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে প্রকাশক ঐক্য। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সরকারিভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের অন্তত একটি করে মানসম্পন্ন বইয়ের ৩০০ থেকে ৫০০ কপি ক্রয়ের জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলছে সংগঠনটি।

প্রকাশনা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি সৃজনশীল প্রকাশনায় পেশাগত ও গুণগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দাবির মধ্যে আছে এসবও।

স্কুল-কলেজের লাইব্রেরিগুলো উন্নত করা, বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইব্রেরি ফের চালু করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘লাইব্রেরি ক্লাস’ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন বলে মনে করে প্রকাশন ঐক্য। দেশব্যাপী বইপড়া কর্মসূচি প্রণয়ন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি বই ক্রয় প্রকল্পগুলো ফের চালু করতে হবে বলেও মনে করেন সংগঠনের প্রকাশকরা।

তারা বলছেন, মেলায় মূলধারার প্রকাশকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং এবারের মেলার সার্বিক মূল্যায়ন করে আগামী বছরের বইমেলার তারিখ এই মেলা শেষের পরপরই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

‘আগামী মেলাগুলোর জন্য স্পেস রেন্ট বা স্টল ভাড়ার বিষয়ে প্রকাশকদের সাথে পর্যালোচনা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘অমর একুশে বইমেলার ওপর প্রকাশনা শিল্পের এই মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সার্বিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ করে তার দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছে প্রকাশক ঐক্য। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ হওয়ায় কয়েক দফা বদলে পর ২৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হয় এবারের অমর একুশে বইমেলার। শেষ হবে আগামীকাল রোববার।

    শেয়ার করুন: