অফিসে কাজ কম, তবুও এত ক্লান্তি কেন?

দিন শেষে শরীর ক্লান্ত, মাথা ভার, কোনো কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না
সকাল থেকে অফিসে কাজ করছেন। বিশেষ কোন শারীরিক পরিশ্রমও হয়নি। অথচ দিন শেষে যখন বাসায় ফিরে আসছেন- শরীর ক্লান্ত, মাথা ভার, কোনো কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না। পরিচিত এই অভিজ্ঞতার পেছনে থাকতে পারে মানসিক চাপ, একটানা মনোযোগ ধরে রাখা কিংবা দিনের পর দিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ার মতো কারণ।
শারীরিক পরিশ্রম না করলেও ক্লান্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, মানসিকভাবে পরিশ্রমসাধ্য কাজ, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং ঘুমের ঘাটতি ক্লান্তির কারণ হতে পারে। এই ক্লান্তি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।
মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম দরকার
মনে হতে পারে- অফিসের কাজ তো কেবল কম্পিউটারে টাইপ করা বা ফাইল পড়া। আসলেই কি তাই? প্রতিনিয়ত নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয় অফিসে। কোন কাজটি আগে করবেন, কোন ই-মেইলের উত্তর দেবেন, সহকর্মীর সমস্যার সমাধান কীভাবে করবেন-এসব ছোট ছোট সিদ্ধান্তও মানসিক পরিশ্রমের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দিনের পর দিন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আবেগগতভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। একে বলা হয় ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ বা সিদ্ধান্তজনিত ক্লান্তি। এ অবস্থায় ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন মনে হতে পারে। মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি, কাজ পিছিয়ে দেওয়া কিংবা সহজেই অভিভূত বোধ করাও এর লক্ষণ হতে পারে।
ক্লান্তি কমাতে কী করবেন?
কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ হাঁটুন বা সহজ কিছু শরীরচর্চা করুন। একটানা অনেকক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান। কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিলে অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের চাপও কমতে পারে।
অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস থাকলে কাজ ও ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সীমারেখা টানার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। অফিসের চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিশ্বস্ত সহকর্মী, পরিবারের সদস্য কিংবা প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
কাজের পর ক্লান্ত লাগা মানেই আপনি অনেক কাজ করেছেন, ঠিক তাও নয়। বরং দিনের মানসিক চাপ, ঘুম ও বিশ্রামের ঘাটতি- সবকিছু মিলিয়েই শরীর-মন অবসন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাই ক্লান্তিকে শুধু কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা না করে, এর কারণ বোঝাও জরুরি।
সূত্র: সিডিসি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক



