চুল পড়ার নেপথ্যে যেসব রোগ থাকতে পারে

সংগৃহীত ছবি
আজকাল অনেকেই হঠাৎ করে বেশি চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই ভাবেন, শ্যাম্পু বদলানো, পুষ্টির অভাব বা স্ট্রেসের কারণেই এমনটা হচ্ছে। কিন্তু সব সময় বিষয়টি এতটা সহজ নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, অতিরিক্ত চুল পড়া অনেক সময় শরীরের ভেতরে থাকা কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে যদি দেখা যায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চুল ঝরছে বা মাথার কোনো জায়গা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এটি শরীরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চুল পড়ার একটি বড় কারণ হতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা। থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দ্রুত ঝরে যেতে শুরু করে।
এছাড়া শরীরে আয়রনের অভাব থাকলেও চুল পড়া বাড়ে। আয়রন কম থাকলে রক্ত ঠিকভাবে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না। ফলে চুল ভেঙে যায় এবং সহজেই পড়ে যায়। এই সমস্যা বিশেষ করে নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে অটোইমিউন রোগও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। এই ধরনের রোগে শরীর নিজেরই কোষকে আক্রমণ করে। এর ফলে ‘অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা’ নামে একটি সমস্যা দেখা দেয়, যেখানে মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় হঠাৎ করে চুল উঠে যায়।
ডায়াবেটিস বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও চুল পড়া বাড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা টেনশন থাকলেও চুল পড়া বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, যার প্রভাব চুলেও পড়ে।
পরামর্শ
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, যদি হঠাৎ করে চুল পড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আসল কারণ জানা যায় এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
মনে রাখতে হবে, চুল পড়া শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়। এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।















