গরুর মাংস খাওয়ার পর যে খাবারটি ভুলেও খাবেন না

সংগৃহীত ছবি
কোরবানির ঈদ মানেই গরুর মাংসের বাহারি আয়োজন। কালা ভুনা, রেজালা, কোরমা, চাপ কিংবা ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে মাংস এসব পদ ছাড়া যেন ঈদের আনন্দই পূর্ণতা পায় না। তবে সুস্বাদু এই খাবার উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি। বিশেষ করে গরুর মাংস খাওয়ার পর কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনটি নয়, সে বিষয়ে সচেতন না হলে হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। ঈদের দিনে অনেকেরই অভ্যাস থাকে মাংসের ভারী খাবারের পর পায়েস, ফিরনি, পুডিং, সেমাই কিংবা অন্যান্য দুধভিত্তিক মিষ্টান্ন খাওয়ার। কিন্তু এ অভ্যাস কিছু মানুষের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
গরুর মাংস ও দুধ—উভয়ই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। একসঙ্গে বা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারণ দুটি খাবারই তুলনামূলক ভারী এবং হজম হতে বেশি সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, অম্বল বা বদহজমের প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য এ ধরনের খাদ্যসংমিশ্রণ আরও বেশি অস্বস্তিকর হতে পারে। ফলে খাওয়ার পর বুক জ্বালাপোড়া, পেটে ভারী ভাব কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, এমন নয়। অনেকেই মাংস ও দুগ্ধজাত খাবার একসঙ্গে খেয়েও কোনো সমস্যা অনুভব করেন না। তবুও হজমতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ভারী মাংসের খাবারের পর কিছুটা বিরতি দিয়ে দুধ বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
তাই ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি সুস্থ থাকতে চাইলে গরুর মাংস খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর দুধ, পায়েস, ফিরনি, পুডিং বা অন্যান্য দুগ্ধজাত ডেজার্ট খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে হজম প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে।
ঈদের ভোজে রসনার তৃপ্তির পাশাপাশি শরীরের প্রতিও যত্নশীল হোন। একটু সচেতনতাই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও স্বস্তিতে।






