বৃষ্টিতে ভেজার পর অসুস্থতা এড়াতে যা করবেন

একজন তরুণীর বৃষ্টিবিলাস। ছবি: এআই
আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। বাঙালির ঋতুচক্রে এই দিনটির আলাদা এক আবেদন আছে। অনেকের কাছে আষাঢ়ের প্রথম দিন উদযাপনের অন্যতম মাধ্যমই হলো বৃষ্টিতে ভেজা। অনেকে আবার বিপদে পরে বৃষ্টিতে ভেজে। এখন নানা শারীরিক জটিলতা আর দূষণের কারণে বৃষ্টিতে ভেজার আগে দুবার ভাবতে হয় আমাদের। একটু সতর্কতা আর সচেতনতা অবলম্বন করলেই ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেও আপনি থাকতে পারেন সম্পূর্ণ সুস্থ।
কেন বৃষ্টিতে অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে?
আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির পানি সব সময় বিশুদ্ধ হয় না। বিশেষ করে শহরের বাতাসে থাকা ধুলোবালি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার ও বিভিন্ন রাসায়নিক কণা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে থাকে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত পানি শরীরের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সুস্থ থাকতে যা যা করা যায়-
বাড়ি ফিরেই গোসল
বৃষ্টিতে ভেজার পর ঘরে ফিরে বেশিক্ষণ ভেজা কাপড়ে থাকবেন না। বৃষ্টির পানি ত্বকের ওপর থাকা জীবাণুর সাথে মিশে সংক্রমণের সৃষ্টি করতে পারে। ঘরে ফেরার পরপরই সাধারণ পানি (স্বাভাবিক তাপমাত্রার) দিয়ে গোসল সেরে নিন। এতে বৃষ্টির পানির অ্যাসিডিক প্রভাব শরীর থেকে দূর হবে।
চুল ধুয়ে ফেলা
অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে চুলে শ্যাম্পু করতে অলসতা করেন। বৃষ্টির পানি চুলে লেগে থাকলে স্ক্যাল্পে ছত্রাক বা খুশকির উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই মাইল্ড কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে নিন এবং পরে চুল শুকিয়ে ফেলুন।
গরম কিছু পান
বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা থেকে ঠান্ডা লাগার ভয় থাকে। এ সময় আদা-লেবু চা, তুলসী পাতার চা বা গরম স্যুপ পান করুন। এটি শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
শুকনো ও পরিষ্কার পোশাক
গোসলের পর দ্রুত শরীর ভালো করে মুছে নিন। সুতির বা পরিষ্কার আরামদায়ক শুকনো পোশাক পরুন। শরীরের কোনো অংশ যেন দীর্ঘক্ষণ ভেজা না থাকে, বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁক বা কানের পেছনের অংশ ভালো করে মুছে নেবেন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
অনেকেই মনে করেন বৃষ্টির দিনে পানি কম খেলেও চলে। কিন্তু শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন খাবার খান
বর্ষাকালে খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, আমলকি কিংবা লেবু রাখতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও খাবার
বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীর কিছুটা ধকলের মধ্য দিয়ে যায়। তাই এর পরপরই হালকা গরম পানিতে হাত-মুখ ধুয়ে বিশ্রাম নিন। ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল, যেমন—লেবু বা মাল্টা খেতে পারেন, যা ফ্লু প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সাধারণত বৃষ্টিতে ভেজার পর সামান্য সর্দি-কাশি হলে ঘরোয়া প্রতিকারে তা সেরে যায়। কিন্তু যদি প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ত্বকে লাল চাকা চাকা দাগের মতো অ্যালার্জি দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বৃষ্টি মানেই নস্টালজিয়া, বৃষ্টি মানেই প্রশান্তি। তবে সেই প্রশান্তি যেন কষ্টের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখুন। সতর্কতা বজায় রেখে আষাঢ়ের এই প্রথম দিনটি উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে।




