আগামীর সময়

ওভারথিংকিং কী, সামলাবেন যেভাবে

ওভারথিংকিং কী, সামলাবেন যেভাবে

এআই নির্মিত ছবি।

যখন মাথার ভেতর হাজারটা ভাবনা অবিরাম চলতে থাকে, তখন সবাই ভাবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা নয়। যখন এই ভাবনাগুলো থামছেই না, একই বিষয় বারবার ঘুরেফিরে আসছে, সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, ছোট একটি ঘটনা নিয়েও রাত জেগে চিন্তা করছেন- এটাই ওভারথিংকিং। বাইরে সব ঠিকঠাক দেখালেও ভেতরে সাতরাজ্যের ভাবনা একটানা জট পাকাতে থাকে।

অনেক সময় আমরা হয়তো ভাবি, ‘আমি বেশি ভাবছি মানে আমি বেশি সচেতন।’ বাস্তবে এই অতিরিক্ত ভাবনাই আমাদের ক্লান্ত করে, ধীর করে, এমনকি ভুল সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দেয়।

ওভারথিংকিং আসলে কী

এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিশ্লেষণ করেন। অতীতের ভুল, ভবিষ্যতের ভয় সব একসঙ্গে মাথায় ঘুরতে থাকে। ফলে বর্তমান মুহূর্তটিই হারিয়ে যায়।
মনোবিজ্ঞানে একে দুইভাবে দেখা হয়,
রিউমিনেশন (Rumination): অতীতের ঘটনা নিয়ে বারবার ভাবা।
ওয়ারি (Worry): ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।
দুটোই মিলেই তৈরি করে এই। অতিরিক্ত চিন্তার জট।

কেন হয়?

* অনিশ্চয়তা ও ভয় থেকে এমন হয়। কী হবে, কী হবে না এই দুশ্চিন্তা মানুষকে বিপন্ন করে তোলে।
* পারফেকশনিজম বা সবকিছু নিখুঁত করার চাপ, সেইসঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা। যেমন - কোনো খারাপ ঘটনা বারবার মনে পড়া থেকেও এমন হয়ে থাকে।
* আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকলে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও সন্দেহ হয়।
* ডিজিটাল ওভারলোড মানে সারাক্ষণ তথ্য, সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না। ফলে ভাবনা চিন্তাও বাড়তে থাকে।

শরীর-মনে প্রভাব

ওভারথিংকিং শুধু মানসিক ক্ষতির কারণ নয়, শরীরকেও ক্লান্ত করে তোলে।
* ঘুমের সমস্যা (ঘুমাতে দেরি হওয়া, মাঝরাতে জেগে ওঠা)
* মাথা ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা
* মনোযোগ কমে যাওয়া
* সিদ্ধান্ত নিতে দেরি
* ছোট বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া
* দীর্ঘমেয়াদে এটি উদ্বেগ বা বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

চেনার উপায়

বারবার পুরোনো কথোপকথন মনে করে 'এটা না বললেই ভালো হতো' ভাবা। একটি ছোট ভুল নিয়ে সারাদিন চিন্তা করা, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অসংখ্যবার যদি 'এমন হয়' কল্পনা করা। ঘুমাতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় নানা চিন্তা চলে আসা ইত্যাদি।

কীভাবে সামলাবেন? 

* ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন এই চিন্তাটা কি সত্যিই প্রমাণিত, নাকি আমি ধরে নিচ্ছি? 'সবাই আমাকে নিয়ে খারাপ ভাবছে' এর প্রমাণ কী?
* ‘স্টপ টেকনিক’ ব্যবহার করুন
মাথায় চিন্তা বাড়লে নিজেকে বলুন—'স্টপ।'
শুনতে সহজ, কিন্তু অভ্যাস করলে কাজ করে।
* সীমা নির্ধারণ করুন
দিনে ১৫–২০ মিনিট ‘চিন্তার সময়’ ঠিক করুন।
বাকি সময় মাথায় এলে নিজেকে বলুন, ‘এটা আমি পরে ভাবব।’
* লিখে ফেলুন
মাথায় যা ঘুরছে, কাগজে লিখে ফেলুন। এতে চিন্তা আলাদা হয়ে দাঁড়ায়, পরিষ্কার হয়।
* শরীরকে নড়াচড়া করান
হাঁটা, ব্যায়াম, এমনকি ঘর গোছানো‌- এসব কাজ মস্তিষ্ককে বিরতি দেয়।
* ‘গুড এনাফ’ মানসিকতা গড়ে তুলুন
সব কিছু নিখুঁত না হলেও চলে এই গ্রহণযোগ্যতা মানসিক চাপ অনেক কমায়।
* ডিজিটাল বিরতি নিন
ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট ফোন থেকে দূরে থাকুন। এতে মস্তিষ্ক শান্ত হয়।

কখন সাহায্য নেবেন?

যদি দেখেন ঘুম একেবারেই ঠিক নেই, কাজ বা পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে, সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে, তাহলে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নেওয়া জরুরি। এটি দুর্বলতা নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটি অংশ।

    শেয়ার করুন: