বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
মার্কেটিং পড়ে পুলিশে কেন আসতে চান?

ছবি এআই নির্মিত
৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী বাচ্চু সরকার। ফল প্রকাশের পর নিজের ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। প্রায় ২০–২২ মিনিটের ভাইভায় বোর্ডের সদস্যরা একাডেমিক বিষয়, ব্যক্তিত্ব, ক্যাডার পছন্দ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইভা বোর্ডে তিনি ছিলেন তৃতীয় সিরিয়ালে।
যেভাবে শুরু হয় ভাইভা
অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সালাম ও শুভ সকাল জানান বাচ্চু। চেয়ারম্যান হাসিমুখে তাকে বসতে বলেন। শুরুতেই জানতে চান তার পরিচয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং বর্তমানে কোথায় থাকছেন।
এরপর চেয়ারম্যান তার ক্যাডার পছন্দ জানতে চাইলে বাচ্চু জানান, তার প্রথম পছন্দ পুলিশ, এরপর প্রশাসন, আনসার ও কাস্টমস ক্যাডার।
বাচ্চু সরকারের ভাইভা অভিজ্ঞতা আগামীর সময়ের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
চেয়ারম্যান : আপনার নাম বাচ্চু রহমান। আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন? এখন কোথায় থাকেন?
উত্তর : জি স্যার। আমি বর্তমানে আমার গ্রামের বাড়িতে থাকি।
চেয়ারম্যান : আপনার চয়েস লিস্টটা বলেন
উত্তর : পুলিশ ক্যাডার, অ্যাডমিন ক্যাডার, আনসার ক্যাডার, কাস্টমস ক্যাডার।
(এগুলো বলার পর স্যার আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন।)
চেয়ারম্যান : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকার কারণে দেশের মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তাইতো? এই নেতিবাচক মনোভাব কীভাবে দূর করা যায়?
উত্তর : স্যার, আমার মনে হয় পুলিশকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে রাজনৈতিক চাপের কারণে জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করতে বাধ্য না হয়। এ জন্য একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা জরুরি।
চেয়ারম্যান : আপনি তো মার্কেটিং থেকে পড়াশোনা করেছেন। মার্কেটিং পড়ে পুলিশে কী কী অবদান রাখতে পারবেন বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : স্যার, মার্কেটিং পড়ার সুবাদে মানুষের সঙ্গে কীভাবে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, তা আমি শিখেছি। এ ছাড়া কোনো সমস্যার পেইন পয়েন্ট থেকে সম্ভাব্য সমাধান পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছাতে হয়, সেটাও আমাদের শেখানো হয়েছে। আমি আমার এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পুলিশের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং পুলিশকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
এক্সটার্নাল–১ : আপনি কি পড়াশোনার সময় কোনো গবেষণা করেছেন?
উত্তর : জি স্যার।
এক্সটার্নাল–১ : তাহলে বলেন তো, SWOT Analysis কী?
উত্তর : স্যার, এটি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অবস্থান ও সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি। এখানে S অর্থ Strength, W অর্থ Weakness, O অর্থ Opportunity এবং T অর্থ Threat.
এক্সটার্নাল–১ : আপনি কী ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে (Co-curricular Activities) অংশগ্রহণ করেছেন?
উত্তর : স্যার, আমি খেলাধুলা করতে ভালোবাসি, তবে খুব বেশি করা হয়নি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সিংহভাগ সময় আমি পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করেছি।
এক্সটার্নাল–১ : আপনি কি কখনো বিতর্ক (Debate) করেছেন?
উত্তর : জি স্যার। স্কুল ও কলেজজীবনে করেছি, তবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে খুব কম করা হয়েছে।
এক্সটার্নাল–১ : আপনি মার্কেটিং পড়ে পুলিশে কেন আসতে চান?
উত্তর : স্যার, মার্কেটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন হলো Customer is King—অর্থাৎ সেবাগ্রহীতাই সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সেবাগ্রহীতার সমস্যা বোঝা এবং তার সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়টি আমাদের শেখানো হয়। তাই আমি যদি পুলিশে যোগ দিতে পারি, তাহলে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে তার কার্যকর সমাধান দিতে আমার জন্য সহজ হবে।এক্সটার্নাল–২ : আচ্ছা বাচ্চু রহমান, আপনি তো মার্কেটিংয়ের শিক্ষার্থী। Sell yourself.
উত্তর : স্যার আমার মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার ছয়টি গুণ থাকা প্রয়োজন—Polite, Obedient, Loyal, Intelligent, Competent এবং Eligible. আমি মনে করি, এই ছয়টি গুণ আমার মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকাও আমার অন্যতম গুণ।
সুতরাং স্যার, আপনি যদি আমাকে পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের সুযোগ দেন, তাহলে বাংলাদেশ পুলিশ একজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল সদস্য পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এক্সটার্নাল–২ : আপনি বললেন স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা জরুরি। কিন্তু সরকার তো পুলিশকে ব্যবহার করে। সরকার কি কখনো স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করবে?
উত্তর : স্যার, এ ক্ষেত্রে সরকারকে উদারতা ও সাহসী পদক্ষেপের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
এক্সটার্নাল–২ : আচ্ছা বাচ্চু, এক্ষেত্রে কি পুলিশের নিজেদের আরও সৎ ও দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন বেশি জরুরি নয়?
উত্তর : জি স্যার, অবশ্যই। তবে এটি নিশ্চিত করার জন্য সবার আগে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন। একজন পুলিশ সদস্য যদি চাকরি পাওয়ার জন্য বড় অঙ্কের ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তাহলে পেশাগত জীবনে সততা ধরে রাখা তার জন্য অনেক কঠিন হয়ে যায়।
চেয়ারম্যান : অনেক ধন্যবাদ। আপনি এখন আসতে পারেন।
উত্তর : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, স্যার। আসসালামু আলাইকুম।
(এর বাইরে আরও দু-একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল; কিন্তু এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।)







