সায়েন্স ফিকশন
নিউরোম্যান্সার

১৯৮৪ সালে উইলিয়াম গিবসনের প্রকাশিত ‘নিউরোম্যান্সার’ ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়েছিল সায়েন্স ফিকশন জনরায়। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর ধারণাকে বহু আগেই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা এই উপন্যাসটি সাইবারপাংক সাহিত্যের অন্যতম সেরা মাস্টারপিস হিসেবে পরিচিত। এর সবচেয়ে বড় অবদান ‘সাইবারস্পেস’ ও ‘ম্যাট্রিক্স’ ধারণার সঙ্গে বিশ্বকে পরিচিত করানো। গিবসন এমন এক অন্ধকারময় ভবিষ্যতের ছবি এঁকেছেন, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে গ্রাস করেছে এবং বিশাল সব মেগাকরপোরেশন রাষ্ট্রগুলোর চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এখানে আলো ঝলমলে নিয়ন সাইনবোর্ড আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধ একাকার হয়ে গেছে।
মূল চরিত্র হেনরি ডোরিয়াস কেস এককালের সেরাদের সেরা হ্যাকার বা ‘কনসোল কাউবয়’। অপরাধের শাস্তি হিসেবে তার স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, যাতে সে আর কোনোদিন সাইবারস্পেসে প্রবেশ করতে না পারে। আর এটি একজন হ্যাকারের কাছে মৃত্যুর সমান। ঠিক তখন তার জীবনে আসে মোলি মিলিয়ন্স— এক সাইবারনেটিক অস্ত্রধারী দুর্ধর্ষ নারী। রহস্যময় নিয়োগকর্তার নির্দেশে তারা দুজনে মিলে একটি শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হ্যাক করার মিশনে নামে। এ মিশনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানবজাতি, চেতনা এবং যন্ত্রের সম্পর্কের এক রোমাঞ্চকর খেলা।
‘নিউরোম্যান্সার’ হ্যাকার সংস্কৃতি ও ইন্টারনেট সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। পরবর্তীকালের কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ থেকে শুরু করে আজকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, মেটাভার্স, সাইবার সিকিউরিটি থিম— সবকিছুর শিকড় আছে এ উপন্যাসে।




