আনজীর লিটনের ছড়াগুচ্ছ

অলঙ্করণ করেছেন রজত
না
ছোট্টসোনা লক্ষ্মীসোনা
বলতে শিখ— ‘না’
লোভ দেখানো ফাঁদ এড়িয়ে
সামনে বাড়াও পা।
অচেনা কেউ ডাকলে কাছে
না বলে দাও না
ভুবনজুড়ে মানুষরূপী
আছে দানব ছা।
মিষ্টি কথায় বিপদ আসে
বুঝতে হবে তা
অন্য হাতে নও নিরাপদ
আসতে পারে ঘা।
ছোট্টসোনা লক্ষ্মীসোনা
রাখবে মাথায় তা
পথ দেখাবে নিরাপদের
বাবা এবং মা।
কাকতাড়ুয়ার ডায়েরি
সকালবেলা? দাঁড়িয়ে আছি
দুপুরবেলা? দাঁড়িয়ে আছি
সন্ধ্যাবেলা? দাঁড়িয়ে আছি
রাত্রিবেলা? দাঁড়িয়ে আছি
দাঁড়িয়ে আছি দাঁড়িয়ে আছি
হাত দুখানা বাড়িয়ে আছি।
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ এলো
আবার ঋতু চলেও গেল
ফুল-ফসলে ছন্দ এলো
ঠান্ডা শীতের গন্ধ এলো
সেই যে আমি, এই যে আমি
আজও কিনা দাঁড়িয়ে আছি
হাত দুখানা বাড়িয়ে আছি।
আর কতকাল চলবে এমন
একটু করো কেয়ার
আমার জন্য দাও না এনে
একটা শুধু চেয়ার
একটু শুধু বসে নেব এই চেয়ারের স্বাদ
চেয়ার পেলে মাথার ওপর বানিয়ে নিতাম ছাদ।
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম
সকালের আলো পেয়ে
পাখি নাচে রুমঝুম
স্কুলে যেতে ভ্যানে বসে
আমার যে পায় ঘুম।
ঘুম চোখে ক্লাসে বসি
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম।
আমারই সাথে যেন
সবকিছু দেয় ঘুম
চুপচাপ নিঝঝুম
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম।
ব্ল্যাকবোর্ড পেনসিল
ব্যাগে থাকা খাতাবই
ঘুম দিল ফ্যানগুলো
নেই কোনো হইচই।
ঘুমিয়েছে গণিতেরা
ভূগোলের যত নদী
ঘুমিয়েছে ব্যাকরণ
দেখে যেতে তুমি যদি।
সকালের ক্লাস মানে
দুই চোখে নামে ঘুম
ঘুম নিয়ে ক্লাসে বসি
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম।
আমাকে নিয়ে আমি
আমি যদি চাঁদ হই, তারাদের সাথী হই
জোসনার আলো হই
হই?
তোমরা তখন খুঁজবে আমায়? জানার আশায় রই।
আমি যদি মেঘ হই, বৃষ্টির ফোঁটা হই
লাল লাল ফুল হই
হই?
কোন সীমানায় খুঁজবে আমায়, জানার আশায় রই।
আমি যদি কথা হই, কথা থেকে গান হই
সুরে সুরে ভেসে রই
রই?
আমার জন্য গাইবে কি গান? জানার আশায় রই।
বইখাতা রেখে দিয়ে আমি যদি এলোচুলে
পাখি হয়ে উড়ে যাই
যাই?
দুচোখ ভাসিয়ে কাঁদবে তখন? আমি তা জানতে চাই।
জানাও হলো না আর, বোঝাও হলো না কিছু
হলো না যাওয়া তাই
তাই—
মন যা আমায় বলছে বলুক, তোমাদের পাশে চাই
তোমাদের ছেড়ে যাব না কোথাও এখানেই সুখ পাই।




