মাছ নাকি লোমশ ব্যাঙ

এই সংখ্যার রঙিন ছবিগুলো এঁকেছেন রজত
দেখতে ব্যাঙের মতো। আবার শরীরভর্তি লোম। কিন্তু সে আদতে মাছ একটা। ওর গল্প শোনাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম
জানোই তো, ব্যাঙ একটা উভচর প্রাণী। ডাঙা ও জলে সমানভাবে বিচরণ করতে পারে। আমার নামে ‘ফ্রগ’ বা ব্যাঙ শব্দটি থাকলেও আমি কিন্তু ডাঙায় উঠলেই অক্কা পাই! মানে, পানিতেই বিচরণ আমার। কারণ, আমি তো আসলে একটা মাছ।
‘হেয়ারি ফ্রগফিশ’ বা লোমশ ব্যাঙমাছ— এমন নাম কে রেখেছে, জানি না! তবে আমাদের শরীরভর্তি এমন অসংখ্য সরু সুচালো চামড়া আছে, যেগুলো দেখতে চুল বা লোমের মতো। সম্ভবত এ কারণেই এমন নামকরণ।
আমরা সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রের অগভীর ও কাদামাখা তলদেশে, প্রবাল প্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় থাকি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আটলান্টিক মহাসাগরের ক্যারিবীয় অঞ্চলেই বেশি বিচরণ। তোমাদের কাছাকাছি এলাকাগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সমুদ্রে গেলে আমাদের দেখা পেতে পারো। অবশ্য চাইলেই যে সহজে দেখা পাবে, তা নয়। কারণ, সমুদ্রে প্রবাল প্রাচীরের ফাঁকফোকরে, বালুকাময় বা পাথুরে তলদেশের সামুদ্রিক ঘাস ও শ্যাওলায় আর আবর্জনাযুক্ত পানিতে লুকিয়ে থাকি আমরা। মানুষ ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলবে— এই ভয়ে এমন লুকোচুরি খেলি, এমনটা ভেব না! মানুষ আমাদের সাধারণত শিকার করে না। না, আমরা খেতে বিষাক্ত নই; তবে আমাদের স্বাদ মানুষের খাওয়ার পক্ষে খুব একটা ভালো না! আসলে লুকোচুরি খেলা আমাদের স্বভাব।
আকারে আমরা ৪ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকি। আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে গায়ের রঙ বাদামি, হলুদ, কালো বা কমলায় পাল্টে ফেলতে পারি; তাই চাইলে আমাদের বর্ণচোরাও বলতে পারো তোমরা, কিচ্ছুটি মনে করব না। এত ছদ্মবেশ নিতে পারি বলে শিকার ধরতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। আমাদের মাথার ওপরে বিশেষ একটি অঙ্গ আছে, যেটি চিংড়ির মতো নড়ে। সেটিকে নাড়িয়ে ছোট ছোট মাছকে আকৃষ্ট করি। আর কাছে এলেই চোখের পলকে গিলে খাই! মুখ হাঁ করে ছোট মাছ গিলে নিতে আমাদের কত সময় লাগে, জানো? হয়তো বিশ্বাস করবে না, তবু বলি। এক সেকেন্ডের ৬ হাজার ভাগের ১ ভাগ সময় মাত্র!
আমরা একটু অলসও আছি। সাঁতার কাটতে খুব আলসেমি লাগে। তার চেয়ে বরং পাখনার সাহায্যে সমুদ্রের তলদেশে টুকটুক করে হেঁটে বেড়াই।




