ক্রাইম থ্রিলার
চিড়িয়াখানা

১৯৫৩ সালে প্রকাশিত ব্যোমকেশ-কাহিনি ‘চিড়িয়াখানা’তে রহস্য, অপরাধ, ছদ্মপরিচয় এবং মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, এটি ব্যোমকেশ বক্সীর অন্যতম ব্যতিক্রমী তদন্ত হিসেবে আজও পাঠকের আগ্রহ ধরে রেখেছে।
কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ‘গোলাপ কলোনি’— নিশানাথ সেনের প্রতিষ্ঠিত এক বিচ্ছিন্ন আবাসস্থল ও ফুলের বাগান। সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে থাকা নানা মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে অতীতের কোনো না কোনো অন্ধকার অধ্যায়, গোপন পরিচয় কিংবা বিতর্কিত ইতিহাস।
এ অদ্ভুত কলোনির প্রতিষ্ঠাতা নিশানাথ সেন একসময় বিচারক ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি এমন মানুষদের আশ্রয় দেন, যারা কোনো না কোনো কারণে সমাজের চোখে সন্দেহভাজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভুজঙ্গধর দাস, ব্রজদাস, নেপাল গুপ্ত, পানুগোপাল, মুশকিল মিঞা এবং আরও অনেকে। প্রত্যেকের আচরণ, অতীত ও পারস্পরিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও জটিল করে।
গল্পের শুরুতে নিশানাথ সেন ব্যোমকেশের কাছে আসেন একটি অদ্ভুত অনুসন্ধানের অনুরোধ নিয়ে। তার আগ্রহ একটি পুরনো বাংলা চলচ্চিত্রের গান এবং সেই গানটির গায়িকা সুনয়নাকে ঘিরে। তিনি সন্দেহ করেন, সুনয়না হয়তো গোলাপ কলোনির কোনো বাসিন্দার ছদ্মপরিচয়ে সেখানে বসবাস করছেন। এ অনুসন্ধানই শেষ পর্যন্ত ব্যোমকেশকে গোলাপ কলোনির রহস্যময় জগতের ভেতরে নিয়ে যায়।
এরপর রহস্য আরও গভীর হয়। গোলাপ কলোনিতে ঘটে যায় নিশানাথ সেনের হত্যাকাণ্ড। কে তাকে হত্যা করল, কেন করল এবং কলোনির বাসিন্দাদের অতীতের সঙ্গে এ হত্যার সম্পর্ক কোথায়— এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই শুরু হয় ব্যোমকেশ ও অজিতের তদন্ত। একে একে সামনে আসতে থাকে গোপন পরিচয়, পুরনো অপরাধ, সম্পর্কের জটিলতা এবং প্রতিশোধের সম্ভাবনা।







