ভিন দেশের ভূত
ভুতুড়ে হোটেল

ফিলিপাইনের বাগুয়া শহরের পাহাড়ি উপত্যকায় কুয়াশা ভেদ করে যখন মধ্যরাতের ঘড়ি ১২টা বাজায়, তখন ‘ওল্ড ডিপ্লোম্যাট হোটেল’ ও এর চারপাশের বাতাসে নেমে আসে এক অদ্ভুত বরফশীতল শূন্যতা। হঠাৎ করেই বহুদূর থেকে হয়তো ভেসে আসে ভারী বুটের পদাশব্দ। আর ঠিক তার পরেই করিডর কাঁপিয়ে একদল নারীর মর্মান্তিক আর্তনাদ— ‘বাঁচাও! কেউ নেই?’
১৯১৩ সালে ফিলিপাইনের পাইন সিটির পাহাড়ি চূড়ায় ডমিনিকান অর্ডারের যাজকদের জন্য শান্তিনিকেতন বা রিট্রিট হাউজ হিসেবে এটি নির্মিত হলেও এই ভবনের ইতিহাস ঘাঁটলে প্রথমেই চলে আসে এক রক্তাক্ত ট্র্যাজেডির বিবরণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সাম্রাজ্যবাদী বাহিনীর দখলে যাওয়ার পর ভবনটি পরিণত হয় এক ভয়ংকর কসাইখানায়। জাপানি গোপন পুলিশ বাহিনী ‘কেম্পেইতাই’ এর ভেতরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে হাজারো নিরপরাধ ফিলিপিনো ও যুদ্ধবন্দিকে। বিশেষ করে ভবনের চ্যাপেলে পবিত্র গির্জার ফাদার ও সন্ন্যাসিনীদের মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। যুদ্ধের শেষ লগ্নে আমেরিকান বাহিনীর আক্রমণ তীব্র হলে জাপানি সেনারা এই ভবনের ডান প্রান্তে গণআত্মহত্যা বা ‘হারা-কিরি’ করে নিজেদের জীবন শেষ করে।
১৯৭০-এর দশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই কাঠামোকে বিলাসবহুল ‘ডিপ্লোম্যাট হোটেল’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকে হোটেলের তৎকালীন ম্যানেজার তথা আধ্যাত্মিক চিকিৎসক অ্যান্টোনিও আগপাওয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পর হোটেলটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই এটি পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইট ট্যুরে আসা পর্যটক ও নাইটগার্ডদের বয়ানে উঠে এসেছে আরও লোমহর্ষক সব অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা। রাতের অন্ধকারে আজও হোটেলের দ্বিতীয় তলার করিডর ও ছাদের ওপরের বিশাল ক্রুশমূর্তির আশপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় অসংখ্য কাটা মুণ্ডুর অশরীরীকে। রাতের দৃশ্য দেখতে আসা দর্শনার্থীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, অন্ধকার কামরাগুলোর ভেতর থেকে হঠাৎ ভেসে আসে ছোট শিশু ও নবজাতকদের কান্নার শব্দ, যা মূলত সেই ফোয়ারা চত্বরের গণহত্যাকারীদের কান্নার রোল বলে বিশ্বাস করা হয়।
এ ছাড়া গভীর রাতে হোটেলের ভেতর থেকে থালাবাসন ভাঙার বিকট শব্দ, জানালা ধাক্কানোর আওয়াজ এবং অদৃশ্য শক্তির ভারী নিঃশ্বাস শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা।



