ভিন দেশের ভূত
গা ছমছমে গোরস্তান

মেক্সিকোর গুয়াদালাখারা শহরের বুকে দাঁড়িয়ে আছে এমন এক জায়গা, যার নাম শুনলেই স্থানীয়দের শিরদাঁড়া দিয়ে আজানা এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। জায়গাটির নাম ‘পান্তেয়ন দে বেলেন’। ১৮৪৮ সালে তৈরি এ গোরস্তানটিকে মেক্সিকোর সবচেয়ে ভুতুড়ে স্থান হিসেবে মানা হয়।
এই গোরস্তানের সবচেয়ে বিখ্যাত আর করুণ গল্পটি হলো ছোট্ট ইগনাসিও বা ‘নাচিতো’র। ছোট্ট নাচিতোর এক অদ্ভুত রোগ ছিল— অন্ধকারকে সে ভীষণ ভয় পেত। ঘুমানোর সময়ও তার ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখতে হতো। একদিন রাতে প্রবল ঝড়ে ঘরের সব আলো নিভে গেলে, ভয়েই হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় শিশুটি। তাকে সমাহিত করা হয় এই পান্তেয়ন দে বেলেনে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল ভুতুড়ে কাণ্ড! গোরস্তানের পাহারাদাররা পরদিন সকালে এসে দেখে, নাচিতোর কফিন মাটির ওপরে উঠে আছে! বারবার একই ঘটনা ঘটতে থাকায় সবাই বুঝতে পারে, ছোট্ট নাচিতো মৃত্যুর পরেও ওই ঘুটঘুটে অন্ধকার কবরে থাকতে চাইছে না! বাধ্য হয়ে তার বাবা-মা মাটির ওপরই একটি পাথরের সমাধি তৈরি করে দেন। অনেকেই দাবি করেন, রাতে নাকি সেখানে বাচ্চার হাসির শব্দ আর খেলনা নিয়ে দৌড়াদৌড়ির আওয়াজ শোনা যায়!
আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা জড়িয়ে আছে ভিক্টোরিয়ানা নামের এক হতভাগ্য নারীর সঙ্গে। তিনি ক্যাটালেপসি নামক স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ছিলেন, যেখানে মানুষ হঠাৎ করে অজ্ঞান ও নিথর হয়ে মৃত মানুষের মতো হয়ে যায়। ডাক্তাররা তাকে সত্যিই মৃত ভেবে কফিনে বন্দি করে কবর দিয়ে দেয়। রাতে পাহারাদাররা নাকি কফিনের ভেতর থেকে নখ দিয়ে আঁচড় কাটার শব্দ শুনতে পেত। কথিত আছে, রাতের বেলা আজও তার আত্মা গোরস্তানে ঘুরে বেড়ায়।
প্রখ্যাত স্থপতি মানুয়েল গোমেজ ইবাররার নকশায় তৈরি এ গোরস্তানটি ১৮৯৬ সালে কবর দেওয়ার জন্য পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত জাদুঘর। তবে রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য এখানে ‘নাইট ট্যুর’ বা রাতের বেলা ঘোরার ব্যবস্থা আছে। রাতের ট্যুরে আসা অনেকেই হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া, অদ্ভুত ফিসফিসানি বা ছায়ামূর্তির আনাগোনা টের পেয়েছেন বলে দাবি করেন।



