এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ : উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রস্তুতি (পর্ব-১)
১. উৎপাদনশীলতা কী?
উৎপাদনশীলতা হচ্ছে সম্পদের ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা উৎপাদনের পরিমাণ। অর্থাৎ কতটুকু কাঁচামাল ব্যবহার করে কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা যায়, তার অনুপাত হচ্ছে উৎপাদনশীলতা। অন্যভাবে উৎপাদনশীলতা বলতে উৎপাদনের দক্ষতাকে বোঝায়।
২. কীভাবে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা কর।
কোনো একটি স্থান থেকে দ্রব্যসামগ্রী অন্যত্র স্থানান্তর করার ফলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকেই স্থানগত উপযোগ বলে। সাধারণত ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে মধ্যস্থ কারবারিরা। একটি পণ্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উৎপাদন হয়, কিন্তু এর চাহিদা থাকে এক বা একাধিক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ অবস্থায়
মধ্যস্থ কারবারিরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর মাধ্যমে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে
থাকে। যেমন— সিলেটের চা বাংলাদেশের সব জেলায় সরবরাহ করে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে থাকে। স্থানগত উপযোগ সৃষ্টিতে পরিবহন বড় ভূমিকা পালন করে।
৩. মূলধন কী?
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে মূলধন বলা হয় ওই উৎপাদিত পণ্যকে, যা অধিক উৎপাদনের জন্য পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। অতএব পণ্যদ্রব্য, যন্ত্রপাতি, শিল্পসামগ্রী— সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত।
লিপসের ভাষায়— মূলধন হলো, সে সমস্ত মানবসৃষ্ট জিনিস, যা নিজের জন্য ভোগ করা হয় না; বরং অন্যান্য দ্রব্য উৎপাদনের সহায়তাকারী মানুষের তৈরি উপকরণ, যথা— হাতিয়ার, কল-কবজা ও সাজ-সরঞ্জাম।
৪. ‘নিম্নমানের পণ্য মূল্যায়ন খরচ বৃদ্ধি করে’— ব্যাখ্যা কর।
একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যে ব্যয় হয়, তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে। নিম্নমানের পণ্য পরীক্ষা করার জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যয় বহন করতে হয়। নিম্নমান থেকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে হলে পরিসংখ্যানিক তথ্য সংগ্রহ এবং ওই তথ্য বিশ্লেষণ করতে প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান উন্নয়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তাই বলা যায়, নিম্নমানের পণ্য মূল্যায়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে।
৫. রূপগত উপযোগ কাকে বলে?
কোনো প্রাকৃতিক সম্পদের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকে রূপগত উপযোগ বলে। যেমন— মাটি থেকে ইট, কাঠ থেকে আসবাব, দুধ থেকে মিষ্টি বা বাঁশ থেকে কাগজ ইত্যাদির রূপগত পরিবর্তন করে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অর্থাৎ রূপগত উপযোগ আকার-আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সন্তুষ্টি বিধান বা চাহিদা পূরণ করে থাকে।
৬. উপযোগ কী?
সাধারণ অর্থে, উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে বোঝানো হয়। প্রকৃতপক্ষে উপযোগ একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। কারণ, সব পণ্যের চাহিদা সবার কাছে একই ধরনের নাও হতে পারে। যেমন— যে ব্যক্তি দুদিন ধরে না খেয়ে আছে, তার কাছে এক টুকরো রুটি যেমন খুবই মূল্যবান, আবার যার কোনো ক্ষুধা নেই, তার কাছে এর উপযোগ তেমন নাও থাকতে পারে। উপযোগ হচ্ছে পণ্যের মধ্যে অন্তর্নিহিত একটি উপাদান, যার জন্য মানুষ ওই পণ্য ক্রয় করে থাকে। যে জিনিসের উপযোগ নেই, তা কেউ কিনতে চায় না বা বিক্রয় হয় না। সুতরাং, বিভিন্ন ধরনের বস্তুগত ও অবস্তুগত সামগ্রীর মধ্যে মানুষের অভাব পূরণের যে ক্ষমতা ও গুণ বিদ্যমান থাকে, তাকেই ওই সামগ্রীর উপযোগ বলে। উপযোগ সম্পর্কে অধ্যাপক মেয়ার্স বলেছেন, ‘উপযোগ হলো কোনো দ্রব্যের গুণ বা ক্ষমতা, যা মানুষের অভাব পূরণ করতে পারে।’ সুতরাং, উপযোগ হলো কোনো বস্তুর অভাব পূরণের ক্ষমতা, যার কারণে মানুষ বস্তুটি ক্রয় করতে রাজি থাকে।
৭. ISO-14000 কী?
ISO-14000 হচ্ছে একটি পরিবেশবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা কারখানার উৎপাদন পরিবেশ-সংক্রান্ত আদর্শ মান স্থাপন করে। ISO- 14000 মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় পরিবেশের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে। এটি দেখায় কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান দূষণ কমাবে, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার করবে এবং পরিবেশবান্ধব নীতি অনুসরণ করবে।
৮. সেবাগত উপযোগ কী?
বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের মাধ্যমে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তাকে সেবাগত উপযোগ বলে। যেমন— ডাক্তার, উকিল, শিক্ষক, নার্স, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবাগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। সেবাগত উপযোগের ক্ষেত্রে সেবাদাতা তার সেবার মালিকানা স্বত্ব হস্তান্তর না করে গ্রাহকের অভাব পূরণ করে। পণ্যের মতো সেবাকে অন্যত্র নিয়ে বিক্রয় করা যায় না।
(বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়)




