একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রাণীর পরিচিতি
- জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সংগৃহীত ছবি
(পূর্ব প্রকাশের পর)
সৃজনশীল প্রশ্ন-২
উদ্দীপক: নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রশ্ন:
ক. মেসোগ্লিয়া কী?
খ. ভেনাস হার্ট (Venus heart) বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের ‘A’ চিত্রে ইঙ্গিতকৃত কোষের অভ্যন্তরে থাকা অঙ্গাণুটির (নেমাটোসিস্ট) প্রকারভেদ বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ‘B’ চিত্রে ইঙ্গিতকৃত জীব দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
(ক) দ্বিস্তরী প্রাণী হাইড্রার বাইরের এক্টোডার্ম (এপিডার্মিস) এবং ভেতরের এন্ডোডার্ম (গ্যাস্ট্রোডার্মিস)-এর মাঝখানে অবস্থিত পাতলা, বর্ণহীন, অসংকোচনশীল ও অকোষীয় জেলির মতো স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে।
(খ) যে হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে কেবল অক্সিজেনহীন বা ডি-অক্সিজেনেটেড (কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত) রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট (Venous heart) বা শিরা-হৃৎপিণ্ড বলে।
মাছের হৃৎপিণ্ড হলো ভেনাস হার্টের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এদের হৃৎপিণ্ড দুটি প্রকোষ্ঠ (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) নিয়ে গঠিত। এটি সারা দেহ থেকে কেবল কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত সংগ্রহ করে ফুলকায় পাঠায়। সংবহনকালে এই হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে কখনোই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় না বলে একে ভেনাস হার্ট বলা হয়।
(গ) উদ্দীপকের ‘A’ চিত্রে দ্বিস্তরী প্রাণী হাইড্রার এপিডার্মিসে অবস্থিত নিডোসাইট কোষের ভেতর থাকা বিশেষ অঙ্গাণু নেমাটোসিস্ট (Nematocyst)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানী ওয়ার্নার (Werner, 1965)-এর মতে হাইড্রাতে ৪ ধরনের নেমাটোসিস্ট দেখা যায়। নিচে এদের প্রকারভেদ বর্ণনা করা হলো:
i. স্টেনোটিল বা পেনিট্র্যান্ট (Stenotele/Penetrant): এটি হাইড্রার সবচেয়ে বড় নেমাটোসিস্ট। এর সূত্রকটি লম্বা, ফাঁপা এবং গোড়ায় ৩টি বড় বার্ব (Barb) ও কয়েক সারি ছোট বার্বিউল (Barbule) থাকে। এর বিষাক্ত তরলকে হিিপনোটক্সিন (Hypnotoxin) বলে, যা প্রোটিন ও ফেনল দিয়ে তৈরি। এটি শিকারকে অবশ করতে ব্যবহৃত হয়।
ii. ভলভেন্ট (Volvent): এটি আকৃতিতে ছোট ও ডিম্বাকার। এর সূত্রকটি খাটো, মোটা এবং স্থিতিস্থাপক। সূত্রকে কোনো বার্ব বা বার্বিউল থাকে না। সুতাটি শিকারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেঁচিয়ে ধরে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
iii. স্ট্রেপ্টোলিন গ্লুটিন্যান্ট (Streptoline glutinant): এর সূত্রকটি লম্বা ও উন্মুক্ত চূড়াবিশিষ্ট। সূত্রকের গায়ে সর্পিলভাবে সাজানো ছোট ছোট কাঁটা থাকে। এটি আঠালো রস ক্ষরণ করে চলন ও শিকার আটকে রাখতে সাহায্য করে।
iv. স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট (Stereoline glutinant): এটি হাইড্রার সবচেয়ে ছোট নেমাটোসিস্ট। এর সূত্রকটি সরু, সোজা, ফাঁপাহীন এবং এতে কোনো কাঁটা বা বার্ব থাকে না। এটিও আঠাল রস ক্ষরণ করে হাইড্রাকে কোনো বস্তুর সঙ্গে আটকে থাকতে বা চলতে সাহায্য করে।
(ঘ) উদ্দীপকের ‘B’ চিত্রে দ্বিস্তরী প্রাণী সবুজ হাইড্রা (Chlorohydra viridissima) এবং এর গ্যাস্ট্রোডার্মাল কোষে বসবাসকারী এককোষী সবুজ শৈবাল (Zoochlorella)-এর পারস্পরিক সম্পর্ককে নির্দেশ করা হয়েছে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এদের এই সম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Mutualism) বলা হয়।
মিথোজীবিতা হলো এমন এক ধরনের সহাবস্থান, যেখানে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয় এবং কেউ কারও ক্ষতি করে না। নিচে এদের পারস্পরিক উপকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:
i. শৈবালের প্রাপ্ত উপকারিতা:
আশ্রয়: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষের ভেতরে নিরাপদে আশ্রয় লাভ করে এবং বহিঃস্থ প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পায়।
সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল: হাইড্রার শ্বসনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) শৈবাল তার সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য: হাইড্রার রেচন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করে শৈবাল নিজস্ব প্রোটিন তৈরি করে।
ii. হাইড্রার প্রাপ্ত উপকারিতা:
খাদ্যপ্রাপ্তি: শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় (কার্বোহাইড্রেট) খাদ্য তৈরি করে, হাইড্রা তা গ্রহণ করে নিজের পুষ্টির অভাব মেটায়।
অক্সিজেন প্রাপ্তি: সালোকসংশ্লেষণের উপজাত (By-product) হিসেবে শৈবাল যে অক্সিজেন (O2) -ত্যাগ করে, হাইড্রা তা নিজস্ব শ্বসনকাজে ব্যবহার করে।
বর্জ্য অপসারণ: হাইড্রার দেহে উৎপন্ন ক্ষতিকর কার্বন ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য শৈবাল কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় হাইড্রা সহজে বর্জ্যমুক্ত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, শৈবাল ও হাইড্রা একে অপরকে ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারে না। হাইড্রা শৈবালকে আশ্রয় ও কাঁচামাল দেয়, আর শৈবাল হাইড্রাকে খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই পরপর নির্ভরতার কারণে এদের সম্পর্কটি জীববিজ্ঞান অনুযায়ী একটি নিখুঁত মিথোজীবিতা (Mutualism)।







